সুপ্রিম কোর্টে আগামী ২৭শে মে মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ মামলার শুনানি ছিল। তবে আপাতত তা চার সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী পরিষদ। অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড উদ্যম মুখার্জী সুপ্রিম কোর্টে এই স্থগিতাদেশের আর্জি জমা দিয়েছেন। আগামী ৩০শে মে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কর্মী সংগঠনগুলোর যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা, সেটির ফলাফলের দিকে তাকিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূচিপত্র
কেন শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি?
আগামী ৩০শে মে, ২০২৬ তারিখে রাজ্যের নতুন সরকারের পক্ষ থেকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী কর্মী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন। এই বৈঠকে মামলার সঙ্গে যুক্ত চারটি প্রধান সরকারি কর্মচারী সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মূলত গত ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা কীভাবে কার্যকর করা যায় তার রূপরেখা তৈরি করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। রাজ্য স্তরেই যেহেতু সরাসরি আলোচনার একটি পথ তৈরি হয়েছে, তাই সুপ্রিম কোর্টের ২৭শে মে-র শুনানি ২৮ দিন বা চার সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য এই পিটিশন জমা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কী?
সরাসরি সরকারের সাথে টেবিলে বসে আলোচনা হলে দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ আদায়ের একটি বাস্তবসম্মত সমাধান পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে।
- বকেয়া মেটানোর রূপরেখা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ কীভাবে মেটানো যায়, তা নিয়ে এই বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
- আইনি জটিলতা এড়ানো: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের বদলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জট কেটে গেলে দ্রুত হাতে টাকা পাওয়ার রাস্তা খুলে যেতে পারে।
- পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তুতি: আগামী ৩০শে মে সরকার কী অবস্থান নেয়, তার ওপর ভিত্তি করেই কর্মীরা আদালতে পরবর্তী আইনি কৌশল সাজাবেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট
গত ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ একটি ঐতিহাসিক রায় দেয়। আদালত রাজ্য সরকারকে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। টাকার পরিমাণ ও তা প্রদানের সময়সীমা নির্ধারণ করতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটিও গড়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই নির্দেশ বাস্তবায়নে সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, ১৮ই মে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ম বেতন কমিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হলেও ডিএ বৃদ্ধির বিষয়টি আলাদা আলোচনার জন্য রাখা হয়।
ডিএ মামলার টাইমলাইন
- ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: বকেয়া ডিএ মেটানো ও বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
- ১৮ই মে, ২০২৬: রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ম বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- ২৭শে মে, ২০২৬: সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার নির্ধারিত শুনানির দিন।
- ৩০শে মে, ২০২৬: নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী ও ৪টি প্রধান কর্মচারী সংগঠনের মধ্যে বৈঠক।
- ৪ সপ্তাহ: আবেদন অনুযায়ী শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবিত সময়সীমা।
এরপর কী হবে?
২৭শে মে-র শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন সুপ্রিম কোর্ট মঞ্জুর করে কি না, তা জানা যাবে আদালতের অফিস রিপোর্টের মাধ্যমে। আবেদন গৃহীত হলে মামলার পরবর্তী শুনানি জুন মাসের শেষের দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নবান্নে অনুষ্ঠিত হতে চলা ৩০শে মে-র বৈঠকই এখন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ বেতন কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।









