MMSBY Scheme: রাজ্যবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’ (MMSBY) নামে একটি নতুন স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প চালু করার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর। গত ২২ জুলাই, ২০২৬ তারিখে রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ২৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখে এই বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি (মেমো নম্বর: HF/O/SS/ABPMJAY/MMSBY/447/217) জারি করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের যোগ্য পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতা এবং প্রতিকূল স্বাস্থ্য পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করা। রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর এই প্রকল্পের নোডাল দপ্তর হিসেবে কাজ করবে এবং স্টেট হেলথ এজেন্সি (State Health Agency) এটি বাস্তবায়ন করবে।
সূচিপত্র
কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত স্থায়ী বাসিন্দা ইতিমধ্যেই ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত কিন্তু ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (AB PM-JAY)-এর আওতাভুক্ত নন, মূলত তারাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে, যাদের CAA বা SIR অ্যাডজুডিকেশন ট্রাইব্যুনালে আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, তারাও অন্যান্য যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করলে এই প্রকল্প থেকে বাদ পড়বেন না। এই ক্ষেত্রে পরিবারের সংজ্ঞা ২০১১ সালের আর্থ-সামাজিক ও জাতি শুমারি (SECC 2011) এবং AB PM-JAY-এর নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’-র প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
- প্রতিটি পরিবারকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা দেওয়া হবে (ফ্লোটার ভিত্তিতে)।
- এটি একটি পরিবার-ভিত্তিক প্রকল্প হলেও প্রত্যেক যোগ্য ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যক্তিগত কার্ড প্রদান করা হবে।
- পরিবারের সদস্য সংখ্যার কোনো ঊর্ধ্বসীমা বা ক্যাপ (Cap) নেই।
- আগে থেকে থাকা সমস্ত রোগ (Pre-existing diseases) এই বিমার আওতাভুক্ত থাকবে।
- পুরো ব্যবস্থাটি প্রথম দিন থেকেই সম্পূর্ণ আইটি (IT) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে।
- নাম নথিভুক্তকরণ, হাসপাতালে ভর্তি এবং ডিসচার্জের সময় আধার (Aadhaar) প্রমাণীকরণ বা ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক।
- এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে ABHA (Ayushman Bharat Health Account) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- AB PM-JAY তালিকাভুক্ত সমস্ত হাসপাতালে এবং তাদের গাইডলাইন মেনেই এই চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে।
- উপভোক্তাদের জন্য খরচের টাকা রিইম্বারসমেন্ট (Reimbursement) বা ফেরত দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।
কারা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন না?
বেশ কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির নাগরিকদের এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। যেমন:
- যে সমস্ত ব্যক্তির পারিবারিক বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি।
- ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম (২০০৮), সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হেলথ স্কিম (১৯৫৪) বা ESI অ্যাক্ট (১৯৪৮)-এর আওতাভুক্ত সরকারি কর্মচারী বা পেনশনভোগীরা।
- কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনো পাবলিক সেক্টর, কর্পোরেশন বা সংস্থায় কর্মরত যে সমস্ত কর্মচারীরা গ্রুপ মেডিকেল ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা পান।
- যে সমস্ত সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগীরা নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল অ্যালাউন্স (Medical Allowance) পান।
- ৭০ বছরের বেশি বয়সী পরিবারের সদস্যরা, কারণ তারা ইতিমধ্যেই ‘আয়ুষ্মান বয়ঃ বন্দনা যোজনা’-র আওতাভুক্ত।
- যাদের নাম SIR তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে (অনুপস্থিত, মৃত বা ডুপ্লিকেট হিসেবে)।
- পাশাপাশি, কোনো ব্যক্তি একই সাথে রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের একাধিক স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন না।
রাজ্য সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে বহু সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসার দরজা খুলে দেবে। ক্যাশলেস এই সুবিধা চালু হলে রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক বড়সড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।









