Dearness Allowance: ২০২৬ ভোটের আগেই কি মিলবে বকেয়া ডিএ? রাজ্য সরকারের ইতিবাচক ইঙ্গিতে আশার আলো কর্মীদের
Dearness Allowance: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। নানা আন্দোলন এবং আইনি লড়াইয়ের মাঝেই এবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। সামনেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন, আর এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রাজ্য সরকার কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমনে উদ্যোগী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য প্রশাসন কর্মীদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন এবং সহানুভূতিশীল।
নির্বাচনের আগে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে বদল?
সাধারণত দেখা যায়, যেকোনো বড় নির্বাচনের আগে শাসক দল সরকারি কর্মীদের জন্য কিছু না কিছু উপহার বা ভাতার ঘোষণা করে থাকে। অতীতেও ভোটের আগে কর্মীদের মন জয়ের চেষ্টা দেখা গেছে। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই এই সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মচারীরা ভোট ব্যাঙ্কের একটি বড় অংশ এবং সরকারি প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই ভোটের আগে তাদের অসন্তোষ জিইয়ে রাখা সরকারের পক্ষে বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
মন্ত্রী মানস ভূঁইয়ার তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত একটি সরকারি কর্মচারী সংগঠনের সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া। সেখানে তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা বর্তমান পরিস্থিতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে বেশ কিছু আশাব্যঞ্জক দিক:
- কর্মীদের গুরুত্ব স্বীকার: মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সরকার খুব ভালোভাবেই জানে সরকারি কর্মীরা বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প রূপায়নে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ছাড়া সরকারি পরিষেবা মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়।
- দাবি সম্পর্কে সচেতনতা: কর্মীদের চিকিৎসা ভাতা, ভ্রমণ ভাতা এবং বহু চর্তিত মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে তাদের দাবির বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। সরকার চোখ বন্ধ করে নেই।
- মুখ্যমন্ত্রীর বিবেচনা: মন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজ্যের আর্থিক সঙ্গতি এবং সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন।
সুপ্রিম কোর্টে মামলা ও জানুয়ারির প্রথা
ডিএ নিয়ে আশার কথা শোনা গেলেও বাস্তবের মাটিতে আইনি জটিলতা এখনও বর্তমান। মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত মামলাটি বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় বা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। গত সেপ্টেম্বর মাসে এই মামলার শুনানি শেষ হলেও, রায়দান বা জাজমেন্ট এখনও সংরক্ষিত (Reserved) রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, আইনি পথে কবে সুরাহা মিলবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
অন্যদিকে, একটি অলিখিত প্রথা অনুযায়ী প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়। কিন্তু চলতি বছরে জানুয়ারি মাস শুরু হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত নবান্নের পক্ষ থেকে তেমন কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। এই নীরবতা কর্মীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি করলেও, মন্ত্রীর সাম্প্রতিক আশ্বাসবাণী সেই হতাশায় প্রলেপ দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বেশ কৌতূহল উদ্দীপক। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষা, অন্যদিকে ভোটের আগে সরকারের নমনীয় মনোভাব। মন্ত্রী মানস ভূঁইয়ার আশ্বাস যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে ২০২৬ সালের আগেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে কোনো সুখবর পেতে পারেন। আপাতত সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী।