Final Voter List: শুনানির পরেও কি ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে? ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হচ্ছে ফাইনাল ভোটার লিস্ট
Final Voter List: নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাম চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বা ফাইনাল ভোটার লিস্ট। এই তালিকা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে যাদের বাড়িতে শুনানির নোটিশ গিয়েছিল, তাদের উৎকণ্ঠা কিছুটা বেশি। কমিশনের এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার শুনানি সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী কাদের নাম নিশ্চিত থাকছে এবং কাদের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে।
শুনানির নোটিশ ও নাম অন্তর্ভুক্তির নিয়ম
ভোটার তালিকায় নাম থাকা না থাকা মূলত দুটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, যাদের নাম খসড়া বা ড্রাফট তালিকায় ছিল এবং বাড়িতে কোনো শুনানির নোটিশ বা হেয়ারিং লেটার আসেনি, তাদের জন্য সুখবর। এই সকল নাগরিকের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা ‘অটোমেটিক’ পদ্ধতিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় স্থান পাবে। তবে নিশ্চিত হতে স্থানীয় বিডিও বা পঞ্চায়েত অফিসে টাঙানো ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা ‘আনম্যাপড ভোটার’ তালিকায় নিজের নাম নেই—সেটা দেখে নেওয়া জরুরি। সেখানে নাম না থাকলে, ফাইনাল লিস্টে আপনার নাম থাকা নিশ্চিত।
দ্বিতীয়ত, যাদের কাছে নোটিশ এসেছিল এবং যারা শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের ভাগ্য নির্ভর করছে জমা দেওয়া নথিপত্র বা ডকুমেন্টের ওপর। নির্বাচন কমিশন নাম যাচাইয়ের জন্য ১৩টি নির্দিষ্ট নথির তালিকা প্রকাশ করেছিল, যার মধ্যে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও গ্রহণযোগ্য। শুনানির সময় যদি আপনি এই নির্দিষ্ট তালিকার মধ্যে থাকা কোনো বৈধ নথি দেখিয়ে থাকেন, তবে আপনার নামও চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে।
কাদের নাম বাতিলের খাতায় যেতে পারে?
চিন্তার কারণ হতে পারে তাদের জন্য, যারা শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু কমিশনের নির্দেশিত নথির বাইরে অন্য কোনো কাগজপত্র দেখিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্ধারিত তালিকার বাইরের কোনো নথি গ্রাহ্য হবে না। ফলে, শুনানির সময় সঠিক প্রমাণপত্র দাখিল করতে না পারলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
নির্বাচন কমিশন এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল:
- নোটিশ জেনারেট: ৩১শে জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে যাদের নোটিশ জেনারেট হওয়ার কথা ছিল, তা সম্পন্ন হয়েছে। নতুন করে আর কাউকে নোটিশ পাঠানো হবে না।
- নোটিশ পৌঁছানো: ১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৫টার মধ্যে নোটিশ নাগরিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার সময়সীমা ছিল।
- নথি আপলোড: যাদের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে, তাদের যাবতীয় নথিপত্র ২রা ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
- শুনানির সময়: নোটিশ ইস্যু হওয়ার ৭ দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করার নিয়ম।
সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি জানা যাবে কাদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় স্থান পেল।