GPF Arrear DA Check: সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা এরিয়ার ডিএ প্রদান শুরু হয়েছে। অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মীদের এই টাকা সরাসরি তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড বা জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। অন্যদিকে গ্রুপ ডি কর্মীরা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই বকেয়া পাচ্ছেন। কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারছেন না জিপিএফ-এ টাকাটা ঠিকমতো ক্রেডিট হয়েছে কিনা।
Table of Contents
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- বিজ্ঞপ্তি নম্বর: 996-F(P2) এবং 1029-F(eGov)
- আর্থিক বছর: ২০২৬-২০২৭
- বকেয়া ডিএ-র সময়কাল: জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯
- জিপিএফ সুদের হার: ৭.১ শতাংশ
- লক-ইন পিরিয়ড: ২৪ মাস
প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের (০৫.০২.২০২৬) ভিত্তিতে রাজ্য সরকার মার্চ মাসে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া শুরু করেছে। গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানগুলি বাদে অধিকাংশ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ইতিমধ্যেই তাঁদের বকেয়া ডিএ পেয়ে গেছেন। তবে গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মীরা জিপিএফ অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স নিয়ে কিছুটা চিন্তায় রয়েছেন। কারণ, অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল বা এজি বেঙ্গল (AG Bengal বা AGWB CAG) এর তরফ থেকে এখনও জিপিএফ স্টেটমেন্ট আপডেট করা হয়নি। তাছাড়া এই টাকাটি ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে জমা পড়েছে। তাই পুরনো স্টেটমেন্টে এই হিসেব প্রতিফলিত হবে না।
HRMS পোর্টাল থেকে চেক করার পদ্ধতি
যদিও AGWB পোর্টালে এখনও আপডেট আসেনি, তবে কর্মীরা খুব সহজেই WBIFMS (wbifms.gov.in) এর এইচআরএমএস (HRMS) পোর্টাল থেকে নিজেদের লগইন ব্যবহার করে স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। নিচে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি আলোচনা করা হলো:
- প্রথমে wbifms.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে eSE লগইন অর্থাৎ এমপ্লয়ীর নিজের লগইন সম্পন্ন করুন।
- এরপর ‘GPF’ মেনুতে ক্লিক করে ‘Report’ অপশনে যান।
- সেখান থেকে ‘GPF Account Statement’ নির্বাচন করুন।
- ‘Financial year’ হিসেবে 2026-2027 সিলেক্ট করুন।
- ‘Statement type’ এর ঘরে ‘Detail Statement’ নির্বাচন করে ‘Generate Report’ এ ক্লিক করুন।
- রিপোর্টটি তৈরি হলে দেখুন সেখানে দুটি আলাদা রো (row) রয়েছে কিনা। একটিতে মার্চ ২০২৬-এর স্বাভাবিক সাবস্ক্রিপশন এবং অন্যটিতে বকেয়া ডিএ ভাউচার নম্বর (Arrear DA voucher number) দেওয়া থাকতে হবে।
- একইসঙ্গে দেখে নিন ‘Interest effective’ হিসেবে 01.05.2026 তারিখটি উল্লেখ আছে কিনা।
AGWB এবং HRMS ব্যালেন্সের পার্থক্য
অনেকেই এজি ডব্লিউবি (AGWB) এর জিপিএফ অ্যাকাউন্টে এরিয়ার টাকা দেখার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তা বর্তমানে দৃশ্যমান নয়। মনে রাখতে হবে, HRMS পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করা জিপিএফ স্টেটমেন্টের সঙ্গে এজি বেঙ্গল-এর মূল ব্যালেন্স এই মুহূর্তে হুবহু মিলবে না। এর প্রধান কারণ হলো, HRMS এর ডেটাবেস বর্তমানে AGWB সিস্টেমের সাথে রিয়েল-টাইমে সিঙ্ক করা নেই।
প্রভাব
এই বিকল্প চেকিং পদ্ধতিটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। এর ফলে এজি বেঙ্গলের স্টেটমেন্ট আপডেট হওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন নেই। কর্মীরা নিজেদের মোবাইল বা কম্পিউটার থেকেই নিশ্চিত হতে পারছেন যে তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতার টাকা সুরক্ষিতভাবে জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে এবং তার ওপর মে মাস থেকে সুদও গণনা করা হবে। এটি দাপ্তরিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি কর্মীদের মানসিক দুশ্চিন্তা দূর করতে বড় ভূমিকা পালন করছে।
সূত্র: অর্থ দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার (বিজ্ঞপ্তি নং: 996-F(P2) এবং 1029-F(eGov))
- তথ্য যাচাই: প্রতিবেদনটির তথ্য অফিশিয়াল নির্দেশিকা এবং অভিজ্ঞ কর্মীদের দ্বারা যাচাইকৃত।