WB GPF Update: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড বা জিপিএফ (GPF) হলো ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান সম্বল। প্রতি মাসে নিয়ম করে বেতন থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ এই ফান্ডে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু সম্প্রতি এই জিপিএফ অ্যাকাউন্টের আপডেট নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম উৎকণ্ঠা ও বিভ্রান্তি। বেতন থেকে নিয়মিত টাকা কাটা হলেও, তা আদৌ ফান্ডে জমা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়ে কোনো তথ্য বা আপডেট তাঁরা পাচ্ছেন না।
সূচিপত্র
দীর্ঘদিনের বন্ধ এসএমএস পরিষেবা এবং কর্মীদের উদ্বেগ
আগে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর কর্মীদের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে জিপিএফ জমার আপডেট পাঠানো হতো। এর ফলে কর্মীরা তাঁদের সঞ্চিত অর্থের বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারতেন। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে এই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শেষবার এই সংক্রান্ত আপডেট পাওয়া গিয়েছিল মে ২০২৫-এ। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন করে আর কোনো মেসেজ আসেনি। কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের কোনো হিসাব না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রাজ্যের অসংখ্য সরকারি চাকরিজীবী।
এজি বেঙ্গল অফিসের বক্তব্য ও সমস্যার কারণ
এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা এ.জি (A.G.) বেঙ্গল অফিসে যোগাযোগ করা হলে, জিপিএফ সেকশন থেকে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। বর্তমান এই অচলাবস্থার পিছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে:
- কর্মী সংকট: এই মুহূর্তে দপ্তরে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মীর অভাব রয়েছে, যার ফলে দৈনন্দিন কাজে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
- প্রযুক্তিগত উন্নয়ন: বর্তমানে এ.জি অফিসে পুরনো কম্পিউটারগুলি সরিয়ে ফেলে নতুন ও আধুনিক কম্পিউটার ইনস্টল করার কাজ চলছে। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণেই মূলত আপডেটের কাজ সাময়িকভাবে থমকে আছে।
কবে মিলবে সমাধান?
তবে কর্মীদের আশ্বস্ত করে এ.জি অফিসের তরফ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়েছে। দপ্তরের আধিকারিকদের মতে:
- আগামী জুলাই-আগস্ট মাস নাগাদ জিপিএফ সাবস্ক্রিপশনের সমস্ত বকেয়া আপডেট সম্পন্ন হয়ে যাবে।
- কর্মীদের বার্ষিক স্টেটমেন্টেও (Annual Statement) এই সমস্ত তথ্য নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হবে।
- সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, এই নতুন সিস্টেম চালু হওয়ার পর থেকে আর তিন মাস নয়, বরং প্রতি মাসে জিপিএফ-এর আপডেট সরাসরি পেয়ে যাবেন কর্মীরা।