All in One Income Tax Calculator FY 2025-26

Download Now!
শিক্ষা

Teacher Recruitment: ৩১৩ জনের চাকরি বাতিলে স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট, পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগে বড় স্বস্তি!

GTA Teacher Recruitment: পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এক নাটকীয় মোড়। জিটিএ (GTA) এলাকার ৩১৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের যে নির্দেশ সিঙ্গল বেঞ্চ দিয়েছিল, তাতে আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এই নির্দেশের ফলে ওই শিক্ষকদের চাকরি এখনই যাচ্ছে না এবং তাঁরা সাময়িক স্বস্তি পেলেন।

বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ১২ সপ্তাহ সিঙ্গল বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে। অর্থাৎ, মামলার পরবর্তী শুনানি বা নতুন কোনো নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ওই শিক্ষকরা নিজেদের পদে বহাল থাকবেন।

সিঙ্গল বেঞ্চের কড়া নির্দেশ ও প্রেক্ষিত

এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সিঙ্গল বেঞ্চ পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল। সিঙ্গল বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছিল যে, ওই ৩১৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি। আদালতের মতে, ‘রেগুলারাইজেশন’ বা স্থায়ীকরণের আড়ালে আসলে সম্পূর্ণ নতুন করে নিয়োগ করা হয়েছিল, যা জিটিএ আইনের পরিপন্থী। জিটিএ আইনের ৭৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী স্কুলগুলি সঠিক সরকারি নিয়ম মেনে চলছিল কি না, তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি বসু।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও জিটিএ-র যুক্তি খণ্ডন

মামলার শুনানিপর্বে জিটিএ এবং আদালতের মধ্যে আইনি যুক্তি-তর্ক অন্য মাত্রা পায়। জিটিএ-র তরফে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, তৎকালীন পাহাড়ের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই সময়ে প্রথাগত বা নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব ছিল না। সেই কারণেই রোশন গিরি শিক্ষকদের চাকরি নিয়মিতকরণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

তবে ডিভিশন বেঞ্চের শুনানিতে বা পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণে আদালত এই যুক্তিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। আদালতের পাল্টা পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিচারপতির মতে, ওই একই সময়ে যদি অন্য দপ্তরে বা ক্ষেত্রে নিয়োগ সম্ভব হয়ে থাকে, তবে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিস্থিতির অজুহাত ধোপে টেকে না। আদালত মনে করছে, এটি আসলে ঘুরপথে বা ‘ব্যাকডোর’ দিয়ে নতুন নিয়োগের একটি কৌশল ছিল মাত্র।

তদন্তের ভবিষ্যৎ কী?

চাকরি বাতিলের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিলেও, দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়া কিন্তু থামছে না। এই বিষয়ে আদালতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট:

  • সিআইডি তদন্ত: রাজ্য পুলিশ বা সিআইডি (CID)-কে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ বহাল রয়েছে। বিধাননগর উত্তর থানায় দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে এই তদন্ত যেমন চলছিল, তেমনই চলবে।
  • সিবিআই প্রসঙ্গ: উল্লেখ্য, এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চ সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ দিলেও সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দেয়। রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে তাদের পুলিশ তদন্তে সক্ষম, যা আদালত মেনে নিয়েছিল।

আপাতত ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়ে শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে। তবে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অবৈধতা বা দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ মেলে, তবে ভবিষ্যতে সেই নিয়োগ বাতিল হতে বাধ্য। মামলার চূড়ান্ত ফয়সালা এখন পরবর্তী শুনানির ওপর নির্ভর করছে।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button