Indian Economy: ট্রাম্পের ৫০% শুল্কের হুমকি? কেন ভারত ভয় পাচ্ছে না, জানুন ৫টি আসল কারণ

Indian Economy: ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫০% শুল্কের হুমকি সত্ত্বেও ভারত বেশ আত্মবিশ্বাসী। ভারতের উপর চাপানো সবচেয়ে বড় শুল্ক হতে চলেছে এটি, কিন্তু ভারত পাঁচটি মূল কারণে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত। আসুন বিস্তারিতভাবে কারণগুলো জেনে নেওয়া যাক।
১. শক্তিশালী বাহ্যিক সুরক্ষা (External Buffers)
ভারতের কাছে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ রিজার্ভ ডলারের তুলনায় টাকার দামে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যখন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ তুলে নিতে শুরু করে, তখন টাকার দামের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই রিজার্ভ ব্যবহার করে আরবিআই (RBI) বাজারে ডলার সরবরাহ করতে পারে, যার ফলে টাকার দাম স্থিতিশীল থাকে। এটি ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ের পরিস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, যখন ভারতের কাছে মাত্র কয়েক সপ্তাহের আমদানির জন্য রিজার্ভ ছিল।
২. শক্তিশালী ম্যাক্রোইকোনমিক বিশ্বাসযোগ্যতা (Macroeconomic Credibility)
প্রায় ১৮ বছর পর, স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর’স (S&P) ভারতের সার্বভৌম রেটিং আপগ্রেড করেছে। এটি ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি এবং উন্নত আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রমাণ। সরকারের নীতি, যেমন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আর্থিক ঘাটতি কমানো, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। এই শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ভারতকে যেকোনো বাহ্যিক চাপ মোকাবেলায় সাহায্য করে।
৩. রপ্তানির উপর কম নির্ভরশীলতা
জার্মানির মতো দেশগুলির অর্থনীতি যেখানে মূলত রপ্তানির উপর নির্ভরশীল, সেখানে ভারতের অর্থনীতি অনেকটাই আলাদা। ভারতের জিডিপির প্রায় ৬০% আসে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বা মানুষের কেনাকাটা থেকে। এর অর্থ হলো, যদি রপ্তানিতে কোনো সমস্যা হয়, তাহলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে পারে। এই শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা ভারতকে রপ্তানি-সম্পর্কিত যেকোনো আঘাত থেকে রক্ষা করে।
৪. সক্রিয় নীতি এবং পদক্ষেপ (Active Policy Tools)
ভারত সরকার এবং রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) উভয়ই শুল্কের প্রভাব মোকাবেলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আরবিআই টাকার দাম স্থিতিশীল রাখতে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার ব্যবহার করছে এবং প্রয়োজনে বাজারে তারল্য সরবরাহ করছে। অন্যদিকে, সরকার রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প, ভর্তুকি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (MSMEs) ঋণ সহায়তা প্রদান করছে। এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলি অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করছে।
৫. বাণিজ্য বহুমুখীকরণ (Trade Diversification)
ভারত শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভর না করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তার বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পরিকল্পনা করছে। লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে নতুন বাজার খোঁজা হচ্ছে। এর ফলে, মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য, যেমন টেক্সটাইল, অন্য দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এই বাণিজ্য বহুমুখীকরণের কৌশল ভারতের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা দেবে।
সব মিলিয়ে, যদিও স্বল্পমেয়াদে রুপির দর, শেয়ার বাজার এবং কর্মসংস্থানে কিছু প্রভাব পড়তে পারে, ভারত তার শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সক্রিয় নীতির কারণে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আত্মবিশ্বাসী।