[New] 2016 থেকে 2019 পর্যন্ত বকেয়া ডিএ ক্যালকুলেটর

Calculate Now!
পশ্চিমবঙ্গ

Lakshmir Bhandar Scheme: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বিরাট সুখবর! স্বাস্থ্য সাথী ছাড়াই মিলবে ১,৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা, জানুন নতুন নিয়ম

Lakshmir Bhandar Scheme: পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের অন্যতম সফল উদ্যোগ ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। ২০২৬ সাল নাগাদ এই প্রকল্পকে আরও জনমুখী করতে রাজ্য সরকার একাধিক বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে। এই নতুন নির্দেশিকার ফলে গ্রামীণ ও শহরের সাধারণ মহিলাদের জন্য আবেদনের পথ আরও মসৃণ হলো। বিশেষত, এতদিন নথিপত্রের অভাবে যারা আবেদন করতে পারছিলেন না, তাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর।

স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের বাধা দূর হলো

এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদনের ক্ষেত্রে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। অনেক মহিলার নিজস্ব বা পরিবারের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড না থাকায় তারা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। কিন্তু নতুন নিয়মে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এখন থেকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আর বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ, কার্ড না থাকলেও মহিলারা আবেদন করতে পারবেন এবং প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে যাদের কার্ড আছে, তারা সেটি জমা দিতে পারেন, কিন্তু এটি না থাকলে আবেদন বাতিল হবে না।

ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি: কত টাকা পাবেন?

শুধুমাত্র আবেদনের নিয়ম সহজ করাই নয়, ভাতার অঙ্কেও বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান বাজারদরের কথা মাথায় রেখে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে:

  • সাধারণ শ্রেণীর (General Category) মহিলাদের জন্য: মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করা হয়েছে।
  • তপশিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) মহিলাদের জন্য: ভাতার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭০০ টাকা

আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী

প্রকল্পের সুবিধা যাতে সঠিক উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, তার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • বয়সসীমা হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। ৬০ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে যাবেন।
  • সরকারি চাকরিজীবী বা যারা নিয়মিত সরকারি পেনশন পান, তারা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ফর্মের সঙ্গে নিম্নলিখিত নথিপত্রের জেরক্স (Self-attested) জমা দিতে হবে:

  • আধার কার্ড: ফর্মের নাম ও বানান আধার কার্ড অনুযায়ী হতে হবে।
  • ব্যাঙ্ক পাসবুক: ব্যাঙ্কের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড যেন স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
  • রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও সচল মোবাইল নম্বর।
  • SC/ST শংসাপত্র: যদি প্রযোজ্য হয়।

কোথায় ও কীভাবে আবেদন করবেন?

ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে সারা বছরই বিডিও (Block) অফিসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম জমা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প থেকেও ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। অনলাইন বা অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই ফর্ম পাওয়া যাবে। ফর্মটি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিলেই কাজ শেষ।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা উপকৃত হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ২৫ বছর উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও যারা কার্ডের অভাবে আবেদন করতে পারছিলেন না, তাদের জন্য এটি নতুন সুযোগ।

Munmun Bera

মুনমুন বেরা WBPAY.in-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। ২০১৮ সাল থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের জন্য তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। বেতন, মহার্ঘ ভাতা, জিপিএফ, পেনশন, আয়কর, সরকারি প্রকল্প এবং চাকরির নিয়মকানুন বিষয়ক সঠিক ও যাচাইযোগ্য তথ্য সহজ বাংলায় পৌঁছে দেওয়াই এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য। WBPAY.in-এর সম্পাদকীয় দলে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের WBIFMS-সহ বিভিন্ন… More »
Back to top button