Pension Hike: বাজেট ২০২৬, ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধি ও ইপিএফও-র নিয়মে বড় বদলের সম্ভাবনা, নজরে ১লা ফেব্রুয়ারি
Pension Hike: দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে আশার আলো দেখছেন দেশের লক্ষ লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ পেশ হতে চলা কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ইপিএস-৯৫ (EPS-95) স্কিমের আওতাভুক্ত প্রবীণ নাগরিকরা। সূত্র মারফত খবর, কেন্দ্রীয় সরকার এই পেনশন ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল আনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা মূল্যবৃদ্ধির বাজারে বয়স্ক নাগরিকদের কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দিতে পারে। ২০১৪ সাল থেকে স্থির হয়ে থাকা মাসিক পেনশনের পরিমাণ এবার বাড়তে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
১১ বছরের খরা ও নতুন প্রত্যাশা
২০১৪ সালে শেষবার ইপিএস-৯৫ এর অধীনে ন্যূনতম পেনশন মাসে ১,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমান বাজারদর এবং মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় এই অর্থ এখন নামমাত্র। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটাতে ভারতীয় মজদুর সংঘ (BMS) এবং বিভিন্ন কর্মী সংগঠন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
- দাবির বহর: সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ন্যূনতম পেনশন ৫,০০০ টাকা করার দাবি যেমন রয়েছে, তেমনই অনেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে তা ৭,৫০০ বা ১০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
- সরকারি পদক্ষেপ: পেনশন ফাণ্ডে গাণিতিক ঘাটতি বা ‘অ্যাকচুয়ারিয়াল ডেফিসিট’ থাকার কারণে এতদিন এই বৃদ্ধি আটকে ছিল। তবে শোনা যাচ্ছে, সরকার এবারের বাজেটে বিশেষ অনুদান বা ‘টপ-আপ’ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনা করছে।
সুপ্রিম কোর্ট ও ওয়েজ সিলিং-এর ভূমিকা
পেনশন বৃদ্ধির অঙ্কের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে পিএফ-এর বেতন সীমা বা ‘ওয়েজ সিলিং’। গত ৫ই জানুয়ারি, ২০২৬-এ সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে আগামী চার মাসের মধ্যে বর্তমানে থাকা ১৫,০০০ টাকার ওয়েজ সিলিং নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে। এই সীমা বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই পেনশনের জন্য জমা অর্থের পরিমাণ বাড়বে, যা ভবিষ্যতে আরও বেশি পেনশনের পথ প্রশস্ত করবে।
২০২৬-এর বাজেটে সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলির একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| বিবরণ | বর্তমান অবস্থা | বাজেট ২০২৬-এ প্রত্যাশা |
|---|---|---|
| ন্যূনতম মাসিক পেনশন | ১,০০০ টাকা | ৫,০০০ – ৭,৫০০ টাকা |
| ইপিএফ ওয়েজ সিলিং | ১৫,০০০ টাকা | ২১,০০০ – ২৫,০০০ টাকা |
| ডিএ (DA) সংযুক্তি | নেই (স্থির) | মহার্ঘ ভাতার সাথে সংযুক্তির সম্ভাবনা |
| চিকিৎসা সুবিধা | সীমিত | আয়ুষ্মান ভারতের আওতাভুক্তকরণ |
ডিজিটাল ভোগান্তি কমাতে ‘ইপিএফ সুবিধা প্রোভাইডার’
বয়স্ক পেনশনারদের ডিজিটাল কাজকর্মে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে ইপিএফও (EPFO) নিয়ে আসছে এক নতুন উদ্যোগ—’ফ্যাসিলিটেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বা ‘ইপিএফ সুবিধা প্রোভাইডার’।
- উদ্দেশ্য: অনেক প্রবীণ নাগরিকই স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে জীবন প্রমাণপত্র (Life Certificate) জমা দিতে বা পিএফ-এর স্ট্যাটাস চেক করতে সমস্যায় পড়েন। এই নতুন সহায়ক ব্যবস্থা তাঁদের সেই মুশকিল আসান করবে।
- পরিষেবা কেন্দ্র: পাসপোর্ট সেবার ধাঁচে আঞ্চলিক পিএফ অফিসগুলিকে আধুনিক সেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হচ্ছে। সেখানে অনুমোদিত সহায়করা নামমাত্র সরকারি ফি-র বিনিময়ে পেনশনারদের যাবতীয় ডিজিটাল কাজ করে দেবেন। ফলে সরকারি দপ্তরে অহেতুক ঘোরাঘুরির দিন শেষ হতে চলেছে।