Primary Teacher Recruitment: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বৈপ্লবিক বদল! আধুনিক শব্দরোধী ঘরে হবে ইন্টারভিউ, স্বচ্ছতায় জোর পর্ষদের
Primary Teacher Recruitment: পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ শিক্ষক নিয়োগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে। দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা ও দুর্নীতির অভিযোগ কাটিয়ে উঠে এবার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বিতর্কহীন করতে বদ্ধপরিকর পর্ষদ। এই লক্ষ্যেই এবার ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো, যা সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না। পর্ষদের মূল লক্ষ্য হলো, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছভাবে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
অত্যাধুনিক ‘স্টেট অফ দ্য আর্ট’ কিউবিক্যাল
নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দ্রুততর এবং ত্রুটিমুক্ত করতে পর্ষদ দপ্তর সেজে উঠেছে নতুন রূপে। তৈরি করা হয়েছে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘স্টেট অফ দ্য আর্ট কিউবিক্যাল’। এই আধুনিকীকরণ শুধুমাত্র বাহ্যিক চাকচিক্য নয়, বরং এর পিছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ ও পরিকল্পনা।
- সম্পূর্ণ শব্দরোধী ব্যবস্থা: ইন্টারভিউ চলাকালীন বাইরের কোনো শব্দ যাতে প্রার্থীর মনোযোগ বা বিচারকদের কাজে ব্যাঘাত না ঘটায়, তার জন্য এই বিশেষ কক্ষগুলো সম্পূর্ণ সাউন্ডপ্রুফ বা শব্দরোধী করা হয়েছে। এর ফলে অত্যন্ত শান্ত পরিবেশে নির্বিঘ্নে ইন্টারভিউ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
- ক্যামেরা ও নজরদারি: স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি কিউবিক্যাল বা কক্ষে একাধিক উচ্চমানের সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার প্রতিটি মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ডিং করা হবে, যা ভবিষ্যতে কোনো আইনি চ্যালেঞ্জ বা অভিযোগ উঠলে প্রামাণ্য নথি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
- বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও ডিজিটাল মার্কিং: মোট ২০টি কিউবিক্যালে ইন্টারভিউ নেওয়া হবে। প্রতিটি কিউবিক্যালে তিনজন করে বিষয় বিশেষজ্ঞ উপস্থিত থাকবেন। কাগজ-কলমের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞদের হাতে থাকবে ল্যাপটপ। প্রার্থীর নথিপত্র যাচাই থেকে শুরু করে ইন্টারভিউ এবং ক্লাস ডেমোনস্ট্রেশনের প্রাপ্ত নম্বর সরাসরি অনলাইনে পোর্টালে আপলোড করা হবে। এতে ম্যানুয়াল বা হাতে লেখা নম্বরের ক্ষেত্রে যে কারচুপির সুযোগ থাকে, তা পুরোপুরি বন্ধ হবে।
নিয়োগের গতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল জানিয়েছেন যে, এই নতুন পরিকাঠামো ব্যবহারের ফলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর ইন্টারভিউ নেওয়া সম্ভব হবে। পর্ষদের দাবি অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় একসঙ্গে ১৫০০ থেকে ২৫০০ প্রার্থীর তথ্য যাচাই ও ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। ফেব্রুয়ারি মাসের ডেডলাইনকে সামনে রেখে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে।
ইতিমধ্যেই এই নতুন পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর জন্য আবেদনকারী প্রার্থীদের ডাকা হয়েছিল। সেখানেও পর্ষদের কড়া নজরদারির প্রমাণ মিলেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
১. ইংরেজি মাধ্যমের জন্য ২৩৫ জন প্রার্থীকে ডাকা হয়েছিল।
২. নথিপত্র যাচাইয়ের সময় ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণে প্রায় ৫০ জন প্রার্থীর আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
৩. মোট শূন্যপদের সংখ্যা ১৩,৪২১টি।
পরবর্তী ধাপ ও পরিকল্পনা
জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বাংলা মাধ্যম এবং অন্যান্য ভাষার স্কুলগুলোর জন্য আবেদনকারী প্রার্থীদের ইন্টারভিউ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া চলবে। এর আগে মাত্র ১০টি কিউবিক্যাল এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও, এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২০টি করা হয়েছে এবং প্রযুক্তির ব্যবহার আরও নিবিড় করা হয়েছে। পর্ষদের আশা, এই ‘হাই-টেক’ ব্যবস্থা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শুধুমাত্র গতিশীল করবে না, বরং চাকরিপ্রার্থীদের মনে হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার এই মেলবন্ধন যদি সফল হয়, তবে তা রাজ্যের শিক্ষা নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নতুন মডেল হিসেবে স্থাপিত হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।
