Putin India Economy: পুতিনের বড় ঘোষণা: জি-৭ নয়, ভারতের সাথে বন্ধুত্বই রাশিয়ার ভবিষ্যৎ! বিশ্বের তৃতীয় শক্তিশালী অর্থনীতি ভারত
Putin India Economy: সম্প্রতি রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন একটি ভারতীয় নিউজ আউটলেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। সাধারণত পুতিন পশ্চিমা মিডিয়া যেমন বিবিসি বা সিএনএন-কে সাক্ষাৎকার দিয়ে থাকেন, কিন্তু ভারতীয় মিডিয়ার সাথে এই সরাসরি কথোপকথন দুই দেশের মজবুত সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সাক্ষাৎকারে তিনি জি-৭ (G7) জোটে ফিরে যাওয়া নিয়ে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান এবং ভারতের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
জি-৭ জোটে ফেরার প্রস্তাব ও পুতিনের প্রত্যাখ্যান
খবর অনুযায়ী, আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দূতের মাধ্যমে পুতিনের কাছে একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছিলেন। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল যে, রাশিয়াকে পুনরায় জি-৭ জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে, যার ফলে এটি আবার জি-৮ (G8) এ পরিণত হবে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর রাশিয়াকে এই গোষ্ঠী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের পেছনে উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেন যুদ্ধে কোনোভাবে বিরতি আনা বা আমেরিকার জন্য কোনো কূটনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত করা।
তবে, ভ্লাদিমির পুতিন এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, জি-৭ জোটে ফিরে যাওয়ার বা একে জি-৮ বানানোর কোনো আগ্রহ তাঁর নেই। পুতিনের মতে, জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতি এখন নিম্নমুখী এবং বিশ্ব জিডিপিতে তাদের অবদান ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। তাই ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতির সাথে যুক্ত হওয়ার চেয়ে তিনি উদীয়মান অর্থনীতির সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে বেশি আগ্রহী।
ভারতের অর্থনীতি নিয়ে পুতিনের দৃষ্টিভঙ্গি
জি-৭ দেশগুলোর পরিবর্তে পুতিন ভারতের মতো দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ‘পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি’ বা পিপিপি (PPP) এর ভিত্তিতে ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। তিনি এমন দেশগুলোর সাথে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে চান যারা উন্নতির পথে রয়েছে।
পুতিন জিডিপি পরিমাপের দুটি ভিন্ন মডেলের তুলনা করে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন, যা নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| ক্রম | পিপিপি (PPP) মডেল | নমিনাল জিডিপি (Nominal GDP) |
|---|---|---|
| ১ | চীন | আমেরিকা |
| ২ | আমেরিকা | চীন (উল্লেখিত নয়) |
| ৩ | ভারত | জার্মানি/জাপান (তালিকায় নিচে) |
| ৪ | রাশিয়া | – |
| ৫ | – | ভারত |
| ৯ | – | রাশিয়া |
ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং বাণিজ্যিক লক্ষ্য
পুতিন জানিয়েছেন যে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে একটি ‘ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (FTA) স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, ভারত ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন (EAEU)-এর সাথেও বাণিজ্যিক চুক্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে রাশিয়া ও কাজাখস্তানের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুই দেশের বাণিজ্যের প্রধান লক্ষ্যমাত্রা:
- বাণিজ্য বৃদ্ধি: ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া।
- মুদ্রার ব্যবহার: বর্তমানে দুই দেশের ৯০% বাণিজ্য রুপি এবং রুবেলে সম্পন্ন হচ্ছে, যা ডলারের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
পরিশেষে, পুতিনের এই সাক্ষাৎকার কেবল পশ্চিমা বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা নয়, বরং এটি বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের এক জোরালো স্বীকৃতি। রাশিয়ার ভবিষ্যৎ যে এখন আর পশ্চিমের দিকে নয়, বরং ভারতের মতো শক্তিশালী মিত্রদের সাথে, তা এই বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।