Ration Card DBT: রেশনের দিন শেষ? এবার চাল-গমের বদলে সরাসরি একাউন্টে ঢুকবে নগদ টাকা! জানুন মোদী সরকারের নতুন পরিকল্পনা
Ration Card DBT: ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য রেশন বন্টন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘদিনের প্রচলিত চাল বা গম দেওয়ার প্রথা থেকে সরে এসে এবার মোদী সরকার সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে ভর্তুকির টাকা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এই নতুন পদ্ধতিতে রেশন কার্ড গ্রাহকদের হাতেই থাকবে চাবিকাঠি—তারা খাদ্যশস্য নেবেন, নাকি সেই সমপরিমাণ টাকা নিজেদের ব্যাংক একাউন্টে জমা করবেন।
ই-রুপি (e-RUPI): ডিজিটাল ভাউচারের মাধ্যমে রেশন বন্টন
এই নতুন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো প্রযুক্তি। স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর সহযোগিতায় সরকার ‘ই-রুপি’ নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল ভাউচার বা কারেন্সি তৈরি করেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করবে, তা নিচে সহজভাবে বোঝানো হলো:
- মোবাইলে ভাউচার: রেশন কার্ড হোল্ডারদের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অংকের ই-ভাউচার পাঠানো হবে।
- পরিবার পিছু টাকা: পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী টাকার অঙ্ক কম-বেশি হবে (উদাহরণস্বরূপ ৫০০ বা ১০০০ টাকা)।
- গ্রাহকের স্বাধীনতা: এই ভাউচার নিয়ে রেশন দোকানে গেলে খাদ্যশস্য পাওয়া যাবে। কিন্তু সবচেয়ে আকর্ষণীয় সুবিধা হলো, যদি কোনো গ্রাহক মনে করেন তার রেশনের প্রয়োজন নেই, তবে তিনি ওই ভাউচারটি রিডিম করে সমপরিমাণ টাকা সরাসরি নিজের ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন।
কেন এই পরিবর্তনের পথে সরকার?
প্রধানত তিনটি কারণে সরকার এই ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) মডেলের দিকে ঝুঁকছে:
১. বিপুল খরচ নিয়ন্ত্রণ: ২০২৪-এর নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছর বিনামূল্যে রেশনের ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, এই প্রকল্পে সরকারের প্রায় ১১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এই বিপুল রাজকোষ ঘাটতি কমাতেই বিকল্প পথের খোঁজ চলছে।
২. ভুয়ো কার্ড বাতিল: দেশে প্রচুর ভুয়ো বা ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড রয়েছে। খাদ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ৭৬,৩৬৩টি ডুপ্লিকেট কার্ড চিহ্নিত হয়েছে। আয়কর, জিএসটি এবং বাহন পোর্টালের তথ্য যাচাই করে অযোগ্যদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশেই এমন ৩০ হাজারের বেশি কার্ড পাওয়া গেছে।
৩. দুর্নীতি রোধ: সরাসরি টাকা বা ভাউচার দিলে মাঝখানের দালালচক্র বা রেশন চুরির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
বর্তমানে কোথায় চালু আছে এই ব্যবস্থা?
এই প্রকল্পটি এখনই সারা দেশে চালু হয়নি। সরকার ধাপে ধাপে এগোতে চাইছে। বর্তমানে চণ্ডীগড়, পুদুচেরি, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং মহারাষ্ট্রের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) এই ডিবিটি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অঞ্চলগুলিতে ইতিমধ্যেই ১১৩ কোটি টাকারও বেশি সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে সারা দেশেই তা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই নতুন নিয়মের বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার ফেডারেশন’-এর মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে রেশন ডিলাররা কর্মহীন হয়ে পড়বেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্বর বসু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, টাকা হাতে পেলে অনেকেই তা দিয়ে পুষ্টিকর খাবার না কিনে অন্য খাতে খরচ করতে পারেন।
আপাতত এই বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন স্তরে রয়েছে এবং দেশজুড়ে লাগু করার আগে এর সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত নোট তৈরি করা হচ্ছে।