All in One Income Tax Calculator FY 2025-26

Download Now!
পশ্চিমবঙ্গ

SIR Logical Discrepancy: ভোটারদের মাথায় হাত! দ্বিতীয়বার শুনানির নোটিশ, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে বড় সমস্যা

SIR Logical Discrepancy: নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলাকালীন সাধারণ নাগরিক ও বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) সামনে এক নতুন চ্যালেঞ্জ এসে উপস্থিত হয়েছে। এতদিন ধরে চলা ‘নো ম্যাপিং’ কেসগুলোর শুনানি যখন প্রায় শেষের মুখে, ঠিক তখনই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Logical Discrepancy) বা তথ্যগত অসঙ্গতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ২০০২ সালের তথ্যের সঙ্গে যাদের বর্তমান তথ্যের সংযোগ বা লিংকেজ নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাদের ফের শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।

লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি আসলে কী?

সহজ কথায়, ভোটার তালিকায় থাকা তথ্যের মধ্যে যুক্তিপূর্ণ সামঞ্জস্য না থাকাই হলো লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্যারামিটারের ভিত্তিতে এই অসঙ্গতিগুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর ফলে বহু ভোটারকে নতুন করে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য ডাকা হচ্ছে। মূলত যে যে কারণে ভোটারদের এই তালিকায় ফেলা হচ্ছে, সেগুলি হলো:

  • পারিবারিক বয়সের ব্যবধান (Progeny Linkage): বাবা অথবা মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের পার্থক্য যদি ২০ বছরের কম হয়, তবে তা অসঙ্গতি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
  • দাদু-দিদিমার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান: গ্র্যান্ড প্যারেন্টস বা দাদু-দিদিমার সঙ্গে নাতি-নাতনির বয়সের তফাত যদি ৪০ বছরের কম (যেমন ৩৮ বা ৩৯ বছর) হয়, তবে সিস্টেমে তা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
  • বানান ও তথ্যের গরমিল: ২০০২ সালের পুরনো ভোটার তালিকায় থাকা নামের বানান (ফার্স্ট, মিডল বা লাস্ট নেম) বা বাবার নামের সঙ্গে বর্তমান নথির সামান্যতম অমিল থাকলেও নোটিশ জেনারেট হচ্ছে।
  • ৪৫ ঊর্ধ্ব ভোটারদের লিংকেজ: যাদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি, অথচ ২০০২ সালে তাদের নিজস্ব নাম তালিকায় ছিল না এবং তারা বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে লিংক করিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠছে।

বিএলও অ্যাপ ও নোটিশ বিভ্রাট

ফিল্ড পর্যায়ে কর্মরত বিএলও-রা বর্তমানে অ্যাপের নতুন ভার্সন (৯.০৩) ব্যবহার করছেন। এই আপডেটে ‘ডেলিভারি অফ শিডিউল হিয়ারিং নোটিশ’ অপশনটি যুক্ত হয়েছে। সমস্যা হলো, পূর্বে যে কেসগুলি বিএলও-রা যাচাই করে ‘নো অ্যাকশন রিকোয়ারড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন বা প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করেছিলেন, কমিশন সেখান থেকে কিছু নাম বাদ দিলেও অনেক ক্ষেত্রে নতুন করে নাম যুক্ত করেছে। ফলে একই ভোটারকে বারবার যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের ভোগান্তি

এই নতুন নিয়মের ফাঁসে পড়ে প্রকৃত বা জেনুইন ভোটাররাও চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কর্মসূত্রে যারা রাজ্যের বাইরে থাকেন, তাদের কাজ ফেলে শুনানির জন্য ফিরতে হচ্ছে। সামান্য নামের বানান ভুলের জন্যও লাইনে দাঁড়িয়ে নথি দেখাতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বিএলও-রা যখন এই নোটিশ নিয়ে ভোটারদের বাড়ি যাচ্ছেন, তখন তাদের সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই শেষলগ্নে এসে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির গেরোয় নাজেহাল দশা তৈরি হয়েছে উভয় পক্ষেরই।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button