SSC Case Update: এসএসসির ১০ নম্বর মামলা খারিজ হাইকোর্টে! ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের জন্য বড় স্বস্তি, জানুন বিস্তারিত
SSC Case Update: কলকাতা হাইকোর্টের ১৮ নম্বর এজলাসে স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসির (SSC) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিষ্পত্তি হলো। নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষকদের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে আবেদনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যে ১০ নম্বর দেওয়া হয়, সেই নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলাটি শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে গেল। আদালতের এই রায়ের ফলে রাজ্যের বহু ইন-সার্ভিস বা কর্মরত শিক্ষকের দুশ্চিন্তার অবসান ঘটল।
মামলাটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন ইন-সার্ভিস শিক্ষকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন, অন্যদিকে মামলাকারীদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই মনে করা হচ্ছে। অভিজ্ঞতার নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে আইনি জট তৈরি হয়েছিল, এই রায়ের মাধ্যমে তার অনেকটাই পরিষ্কার হলো।
কেন দায়ের হয়েছিল এই মামলা?
মামলাকারীদের মূল আপত্তি ছিল নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষকদের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত ১০ নম্বর সুবিধা দেওয়া নিয়ে। মামলাকারীদের আইনজীবী আশিস বাবু এবং ফিরদৌস শামিম আদালতে যুক্তি দেন যে:
- বেতন ও যোগ্যতার পার্থক্য: নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ—এই দুই স্তরের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পে-স্কেল বা বেতনক্রম সম্পূর্ণ ভিন্ন।
- দ্বৈত সুবিধা বা ‘ডবল বেনিফিট’: তাঁরা দাবি করেন, নিচু স্তরের অভিজ্ঞতার জন্য উঁচু স্তরে সুবিধা পাওয়া উচিত নয়। একে তাঁরা ‘ডবল বেনিফিট’ বলে অভিহিত করেন।
- এনসিটিই (NCTE) গাইডলাইন: আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং এনসিটিই-র নিয়মাবলীর উল্লেখ করে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে দুটি স্তর আলাদা সত্তা। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, আপার প্রাইমারির প্যারা টিচাররা যেমন প্রাইমারিতে সুবিধা পান না, তেমনই এক্ষেত্রেও এই নিয়ম খাটা উচিত নয়।
পর্ষদ ও ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের পাল্টা যুক্তি
অন্যদিকে, পর্ষদ এবং কর্মরত শিক্ষকদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী সুবীর সান্যাল। তিনি আদালতের সামনে বেশ কিছু জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়:
- রুলস চ্যালেঞ্জ না করা: আইনজীবী জানান, মামলাকারীরা এসএসসির মূল নিয়োগ বিধি বা ‘রুলস’ (Rules)-কে চ্যালেঞ্জ করেননি। বর্তমান রুলসে কোথাও বলা নেই যে এক স্তরের অভিজ্ঞতা অন্য স্তরে গ্রাহ্য হবে না।
- পরীক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা: তিনি আরও জানান, নবম-দশমের শিক্ষকদের কাউন্সিল অনেক সময় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ করে। ফলে তাঁদের ওই স্তরের কাজের অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
- আইনি অবস্থান: রুলস বা নিয়মকে চ্যালেঞ্জ না করে শুধুমাত্র তার থেকে প্রাপ্ত সুবিধার বিরোধিতা করা আইনত যুক্তিযুক্ত নয়।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি জানান, এই রিট পিটিশনে নিয়োগের মূল রুলস বা বিধিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। যেহেতু বর্তমান রুলস অনুযায়ী অভিজ্ঞতার নম্বর দেওয়ার সংস্থান রয়েছে, তাই এই মামলার কোনো সারবত্তা বা ‘মেরিট’ নেই।
বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, যদি কেউ এই অভিজ্ঞতার নম্বর দেওয়ার পদ্ধতি বদলাতে চান, তবে তাঁকে মূল রুলস চ্যালেঞ্জ করে আলাদাভাবে পিটিশন দাখিল করতে হবে। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই তিনি মামলাটি খারিজ (Dismiss) করে দেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
এই রায়ের ফলে নবম-দশমে কর্মরত শিক্ষকরা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগে অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হলেন। আন-ট্রেইনড শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার নম্বর নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তা এই রায়ের ফলে কেটে গেল। তবে মামলাকারীরা ভবিষ্যতে ডিভিশন বেঞ্চ বা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এসএসসি সংক্রান্ত অন্যান্য মামলার শুনানির দিকেও সকলের নজর রয়েছে। আগামী ৮ই জানুয়ারি, ১৩ই জানুয়ারি এবং ২৮শে জানুয়ারি এসএসসির প্যানেল মেয়াদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।