SSC Case Update: এসএসসির ১০ নম্বরের বৈধতা: অভিজ্ঞ বনাম অনভিজ্ঞ দ্বন্দ্বে আদালতে রাঁধুনির উপমা দিলেন এজি
SSC Case Update: কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত, ১৯-২৪ টিচিং এক্সপেরিয়েন্স বা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রদত্ত ১০ নম্বরের বৈধতা নিয়েই এই আইনি লড়াই চলছে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত এদিন আদালতের সামনে কমিশনের সিদ্ধান্তের সপক্ষে একাধিক জোরালো যুক্তি পেশ করেন।
নিয়োগে অভিজ্ঞতার কদর ও আদালতের এখতিয়ার
মামলার শুনানিতে অ্যাডভোকেট জেনারেল একটি সহজ অথচ তাৎপর্যপূর্ণ উপমা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, রান্নার কাজের জন্য যেমন একজন অভিজ্ঞ রাঁধুনিকেই সাধারণত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, ঠিক তেমনই শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতার একটি বিশেষ মূল্য থাকা উচিত। তাঁর মতে, সিলেকশন কমিটি যখন কোনও নিয়ম বা রুলস তৈরি করে, তখন তা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই হয়। সাধারণত, নীতি নির্ধারণ বা রুলস তৈরির ক্ষেত্রে আদালত হস্তক্ষেপ (Interfere) করে না, যদি না তা সংবিধান বিরোধী হয়।
সংবিধান ও সাম্যের অধিকার লঙ্ঘন হয়নি
মামলাকারীদের একাংশের অভিযোগ ছিল যে, অভিজ্ঞদের বাড়তি নম্বর দেওয়া বা আলাদা করে দেখা সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ বা সাম্যের অধিকারের বিরোধী। এই যুক্তির পাল্টা হিসেবে এজি জানান:
- ভিন্ন শ্রেণি: যারা অভিজ্ঞ এবং যারা অনভিজ্ঞ, তারা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা শ্রেণি (Class)। এদের একই পাল্লায় মাপা যায় না।
- কাজের স্বীকৃতি: যারা ইতিমধ্যেই কাজের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করেছেন, তাঁদের বাড়তি সুবিধা প্রদান করা কোনওভাবেই বৈষম্য নয়।
- নজির: তিনি তেলঙ্গানা হাইকোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করেন, যেখানে ১০০ শতাংশ শূন্যপদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ অভিজ্ঞদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল এবং আদালত সেই সিদ্ধান্তকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে মান্যতা দিয়েছিল।
আইনি জটিলতা ও ক্ষমতার বন্টন
শুনানিতে প্রশ্ন উঠেছিল, এসএসসি বা সাবঅর্ডিনেট লেজিসলেচার কি নিজের ইচ্ছেমতো রুলস তৈরি করতে পারে? এর উত্তরে সুপ্রিম কোর্টের ‘ইলেকট্রিসিটি অ্যাক্ট’-এর রায় তুলে ধরা হয়। এজি ব্যাখ্যা করেন যে, মূল আইনসভা বা প্যারেন্ট লেজিসলেচার ক্ষমতা প্রদান করলে, সাবঅর্ডিনেট বডি নিয়ম তৈরি করতে পারে। গেজেট নোটিফিকেশন মেনেই কমিশন কাজ করেছে, তাই এই প্রক্রিয়াকে ‘আরবিট্রারি’ বা মনগড়া বলা চলে না।
অনিশ্চয়তার মেঘ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
যদিও এদিনের শুনানিতে ভোকেশনাল, পার্ট-টাইম এবং সেন্ট্রাল টিচারদের ১০ নম্বর পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, তবে এজি এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানিতে তাঁর বক্তব্য পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও ১০-১২টি পুরোনো মামলার রায় (Judgements) আদালতে পেশ করার জন্য সময় চেয়েছেন।
আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। তবে রোস্টার পরিবর্তন এবং ইতিমধ্যেই নিয়োগ প্যানেল প্রকাশিত হয়ে যাওয়ায়, আইনি জটে পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাকরিপ্রার্থীরা।