All in One Income Tax Calculator FY 2025-26

Download Now!
সরকারি কর্মচারী

SSK MSK Salary: নামমাত্র বেতন বাড়ল শিক্ষকদের, ক্ষোভে ফুঁসছেন রাজ্যের ৪০ হাজার কর্মী? জানুন নতুন কাঠামো

SSK MSK Salary: বছরের শুরুতেই রাজ্যের শিশু শিক্ষা কেন্দ্র (SSK) এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের (MSK) শিক্ষকদের জন্য বড় খবর নিয়ে এল রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বেতন বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। শিক্ষকদের বেতন ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে এই নতুন বর্ধিত বেতন কার্যকর হবে। তবে, সরকারের এই ঘোষণায় খুশি হওয়ার বদলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে শিক্ষক মহলে। তাদের মতে, বর্তমান বাজারদরের নিরিখে এই বৃদ্ধি কার্যত ‘উপহাস’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

কতটা বাড়ল বেতন? এক নজরে নতুন বেতন কাঠামো

রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পদমর্যাদা অনুসারে ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিচে বর্তমান বেতন এবং ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে চলা নতুন বেতনের একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হল:

পদের নামবর্তমান বেতন (টাকা)নতুন বেতন (টাকা)বৃদ্ধির পরিমাণ (টাকা)
সহায়ক বা সহায়িকা (SSK)১১,৫৯৩১১,৯৪১৩৪৮
সম্প্রসারক বা সম্প্রসারিকা (MSK)১৪,৬৩২১৫,০৭১৪৩৯
মুখ্য সহায়ক/সহায়িকা (SSK)১৬,২৩১১৬,৭১৮৪৮৭
সিনিয়র সম্প্রসারক/সম্প্রসারিকা (MSK)১৫,০৭১১৫,৫২৩৪৫২

কেন সন্তুষ্ট নন শিক্ষকরা?

বেতন বৃদ্ধির খবরটি আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক মনে হলেও, বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একজন সহায়ক বা সহায়িকার বেতন বেড়েছে মাত্র ৩৪৮ টাকা। বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই সামান্য অর্থ দৈনন্দিন জীবনে কোনো বিশেষ প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছেন অধিকাংশ শিক্ষক।

শিক্ষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা সম্মানজনক বেতন এবং পূর্ণ সময়ের শিক্ষকদের মর্যাদার দাবিতে আন্দোলন করছেন। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে শিক্ষা দপ্তরের অধীনে আনার সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে তাদের অবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নামমাত্র ৩ শতাংশ বাৎসরিক বৃদ্ধি (Annual Increment) ছাড়া তাদের মূল বেতনের কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষকদের একাংশের মতে, “বছরের পর বছর ধরে আমরা গ্রামের পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করছি, অথচ আমাদের প্রাপ্যের ঝুলি সবসময়ই শূন্য থাকছে।”

পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি

রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার শিশু শিক্ষা কেন্দ্র (SSK) এবং প্রায় দেড় হাজার মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র (MSK) রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। মূলত রাজ্যের গ্রামীণ এবং পিছিয়ে পড়া এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করতে এই কেন্দ্রগুলির ভূমিকা অপরিসীম।

  • ২০১৮ সালের পরিবর্তন: দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০১৮ সালে এই শিক্ষকদের পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীন থেকে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অধীনে আনা হয়।
  • অবসরকালীন সুবিধা: সেই সময় ঘোষণা করা হয়েছিল যে অবসর গ্রহণের পর শিক্ষকরা এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ‘টার্মিনাল বেনিফিট’ বা অবসর ভাতা পাবেন।
  • বেতন বৃদ্ধি: তখন থেকেই ৩ শতাংশ হারে বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যা এবার কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি হল।

আগামী পদক্ষেপ কী হতে পারে?

স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এই বিজ্ঞপ্তিতে আইনি সিলমোহর পড়লেও, শিক্ষকদের অসন্তোষ সহজে মিটছে না। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ফোরামে শিক্ষকরা এই “নামমাত্র” বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাদের দাবি, রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো তৈরি করতে হবে। অন্যথায়, আগামী দিনে ফের বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারেন এসএসকে এবং এমএসকে শিক্ষকরা।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে আপনি কীভাবে দেখছেন? এই সামান্য বেতন বৃদ্ধি কি শিক্ষকদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানান।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button