Grant In Aid DA: গ্রান্ট ইন এইড কর্মী এবং পেনশনারদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি বিবিধ আবেদন বা মিসলেনিয়াস অ্যাপ্লিকেশন দায়ের করেছে ইউনিটি ফোরাম। রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে থাকা বৈষম্য এবং অবহেলার বিরুদ্ধে আইনি সুরাহা পেতেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এই সংগঠনের সদস্যরা।
অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি ও বৈষম্যের মূল কারণ
রাজ্যের অর্থ দপ্তর বা ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা প্রদানের বিষয়ে তিনটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এই বিজ্ঞপ্তিগুলির মধ্যেই বৈষম্যের মূল ভিত্তি লুকিয়ে রয়েছে বলে ইউনিটি ফোরামের দাবি।
- বিজ্ঞপ্তি নম্বর ৯৯৬: এটি রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ প্রদান সংক্রান্ত নির্দেশিকা।
- বিজ্ঞপ্তি নম্বর ৯৯৭: এটি রাজ্য সরকারি পেনশনার এবং ফ্যামিলি পেনশনারদের বকেয়া ডিএ প্রদান সংক্রান্ত নির্দেশিকা।
- বিজ্ঞপ্তি নম্বর ৯৯৮: এই নির্দেশিকাটি বিশেষভাবে রাজ্যের অনুদানপ্রাপ্ত বা গ্রান্ট ইন এইড কর্মী, পেনশনার এবং ফ্যামিলি পেনশনারদের জন্য জারি করা হয়।
সংগঠনের অভিযোগ অনুযায়ী, ৯৯৬ এবং ৯৯৭ নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক বকেয়া মহার্ঘ ভাতা প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের জন্য জারি করা ৯৯৮ নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের দ্বারা বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার কথা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল। এর পরিবর্তে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনাধীন বা আন্ডার কনসিডারেশন রয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মী এবং গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই সুস্পষ্ট বৈষম্য আদালতের নজরে আনার জন্যই আবেদনটি করা হয়েছে।
আবেদনকারী এবং আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য
গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের বঞ্চনা মেটাতে ইউনিটি ফোরামের এই আইনি পদক্ষেপে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন।
- আবেদনকারী: ইউনিটি ফোরামের কনভেনার মাননীয় বিপ্লব ব্যানার্জী মহাশয় এই আবেদন করেছেন। তিনি নিজেও গ্রান্ট ইন এইড বিভাগের সাথে যুক্ত একজন কর্মী, যার ফলে তিনি সমস্যাটি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন।
- আইনজীবী: সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী মাননীয়া করুণা নন্দী মহাশয়ার পরামর্শ ও নির্দেশ অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ আবেদনটি প্রস্তুত ও দায়ের করা হয়েছে।
- রেকর্ড ভুক্তকারী: আইনি রেকর্ড ভুক্ত করার দায়িত্বে রয়েছেন আইনজীবী বিপুল কুমার।
- মূল লক্ষ্য: অর্থদপ্তরের ৯৯৮ নম্বর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের যে আলাদা করে রাখা হয়েছে, সেই নির্দিষ্ট বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের সামনে তুলে ধরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যাতে সবার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হয় তা নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।