ডিএ

DA Arrears Notification: গ্রান্ট-ইন-এইড বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বকেয়া ডিএ হিসাবের নির্দেশ

West Bengal Office Desk With File And Computer
West Bengal Office Desk With File And Computer

এক নজরে

  • **নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি:** উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে গ্রান্ট-ইন-এইড বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে।
  • **মেমো নম্বর ৯৯৮:** অর্থ দপ্তরের ৯৯৮ নম্বর মেমো অনুযায়ী ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ এবং ডিআর হিসাব করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • **ডিডিও-দের দায়িত্ব:** কর্মীদের সার্ভিস বুক এবং অ্যাকুইটেন্স রোল মিলিয়ে নির্ভুল হিসাব এক্সেল শিটে পাঠাতে হবে।
  • **সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রভাব:** ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই রাজ্য সরকার একটি কিস্তিতে এই বকেয়া মেটানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
  • বিস্তারিত নিয়ম এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি পড়ুন।

DA Arrears Notification: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের (Department of Higher Education) ইউনিভার্সিটি ব্রাঞ্চ ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে স্টেট এডেড বা গ্রান্ট-ইন-এইড বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মূলত রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের (Finance Department) ৯৯৮ (998) নম্বর মেমোর নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়ে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ এবং ডিয়ারনেস রিলিফ বা ডিআর-এর পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব চাওয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের কর্মীদের দীর্ঘদিনের পাওনা মেটানোর কাজ আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

সূচিপত্র

বিজ্ঞপ্তির মূল বিষয়বস্তু ও দাপ্তরিক নির্দেশিকা

রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের পূর্ববর্তী নির্দেশিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলিকে তাদের অধীনস্থ কর্মীদের বেতনের হিসাব নিকাশ করে পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশিকা কার্যকর করতেই উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ইউনিভার্সিটি ব্রাঞ্চ এই নতুন বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছে। ডিডিও (DDO) বা ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • প্রতিটি কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর বেতন সংক্রান্ত তথ্য, বিশেষ করে পে-অ্যালাউন্সের বিস্তারিত বিবরণ একটি নির্দিষ্ট এক্সেল শিটে (Excel Sheet) নথিভুক্ত করে জমা করতে হবে।
  • এই হিসাব নিকাশ কোনোভাবেই আনুমানিক ভিত্তিতে করা যাবে না। প্রতিটি কর্মীর সার্ভিস বুক (Service Book) এবং সংশ্লিষ্ট মাসের অ্যাকুইটেন্স রোল (Acquittance Roll) থেকে তথ্য মিলিয়ে নির্ভুলভাবে হিসাব প্রস্তুত করতে হবে।
  • বিজ্ঞপ্তিতে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) এবং পেনশনারদের ক্ষেত্রে ডিয়ারনেস রিলিফ (Dearness Relief) এর বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
Advertisement

বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক নির্দেশের পর রাজ্য সরকার বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দ্রুত মেটানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পূর্বে এই বকেয়া অর্থ দুটি কিস্তিতে দেওয়ার কথা থাকলেও, পরে ২৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে রাজ্য সরকার জানায় যে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ একটিমাত্র কিস্তিতেই মেটানো হবে। সেই বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এখন সরকার পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীদের বকেয়া হিসাব করার জন্য এই ডেটা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

কর্মীদের ওপর এর প্রভাব

এই নতুন নির্দেশিকার ফলে গ্রান্ট-ইন-এইড বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জীবনে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে। প্রথমত, ডিডিও-দের মাধ্যমে সরাসরি সার্ভিস বুক এবং অ্যাকুইটেন্স রোল যাচাই করার ফলে পাওনা অর্থের হিসেবে কোনো ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা একেবারেই দূর হবে। দ্বিতীয়ত, সঠিক হিসাব সময়মতো জমা পড়লে রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের পক্ষে প্রয়োজনীয় ফান্ড বা তহবিলের অনুমোদন দেওয়া অনেক সহজ হবে। এর ফলে যোগ্য কর্মীরা তাদের ন্যায্য বকেয়া অর্থ নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বা জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন। যারা কোষাগার বা ট্রেজারির মাধ্যমে পেনশন পান, তাদের বকেয়া অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। সামগ্রিকভাবে এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অনেকটাই সাহায্য করবে।

অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

উচ্চশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত হিসাব সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, রাজ্যের অন্যান্য বিদ্যালয় বা গ্রান্ট-ইন-এইড সংস্থাগুলির জন্য এখনও পর্যন্ত কোনো আলাদা বিজ্ঞপ্তি বা গাইডলাইন প্রকাশিত হয়নি। তবে প্রশাসনিক মহলের জোরালো ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির তথ্যাবলি সংগ্রহের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন হলে খুব শীঘ্রই বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের জন্যও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে অনুরূপ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। এতে রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী অচিরেই উপকৃত হবেন।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>