TET Mandatory: টেট না থাকলে চাকরি বাতিল? শিক্ষকদের জন্য কড়া গাইডলাইন কেন্দ্রের
TET Mandatory: ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৫-এ কেন্দ্রীয় শিক্ষা দপ্তরের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বর্তমানে শিক্ষামহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির কাছে টেট (TET) পাস না করা শিক্ষকদের তালিকা তলব করেছে। আগামী ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬-এর মধ্যে রাজ্যগুলিকে তাদের অবস্থান এবং সঠিক পরিসংখ্যান জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূলত, শিক্ষকতার চাকরিতে গুণমান বজায় রাখতে এবং আইনি জটিলতা কাটাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য এই নির্দেশিকা কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
চাকরির মেয়াদ ও টেট পাস: কার জন্য কী নিয়ম?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে দুটি পৃথক নিয়ম চালু করার কথা বলা হয়েছে। এই নিয়মগুলি শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করবে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
| চাকরির অবশিষ্ট মেয়াদ | নতুন নিয়ম ও প্রভাব |
|---|---|
| ৫ বছরের কম | চাকরি বজায় থাকবে। টেট পাস বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে কোনো প্রমোশন বা পদোন্নতি পাওয়া যাবে না। প্রমোশনের জন্য টেট পাস আবশ্যিক। |
| ৫ বছরের বেশি | আগামী ২ বছরের মধ্যে টেট পাস করা বাধ্যতামূলক। ব্যর্থ হলে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ (Compulsory Retirement) দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে টার্মিনাল বেনিফিট পাওয়া যাবে। |
রাজ্যের কাছে ঠিক কী জানতে চাওয়া হয়েছে?
কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলির কাছে কেবল তালিকা চেয়ই ক্ষান্ত হয়নি, বরং আইনি এবং প্রশাসনিক দিক থেকেও স্পষ্ট মতামত চেয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
১. সঠিক পরিসংখ্যান: রাজ্যে বর্তমানে কতজন শিক্ষক কর্মরত আছেন যারা এখনও টেট পাস করেননি, তার নির্ভুল সংখ্যা।
২. নিয়োগের ভিত্তি: এনসিটিই (NCTE)-এর কোন গাইডলাইন মেনে ওই শিক্ষকদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তার বিস্তারিত তথ্য।
৩. আইনি মতামত: সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়তে পারে এবং রাজ্য সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে, তার আইনি ব্যাখ্যা।
শিক্ষকদের উদ্বেগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের মধ্যে উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষত, যে সমস্ত শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ ৫ বছরের বেশি কিন্তু অবসরের খুব বেশি দেরি নেই, তাদের জন্য এই বয়সে এসে নতুন করে টেট পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষক মহলের একাংশের মতে, অভিজ্ঞতাই একজন শিক্ষকের বড় সম্পদ। শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের ছাঁটাই বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠালে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় শূন্যতা বা ‘ভ্যাকুয়াম’ তৈরি হতে পারে। এতে ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনেও ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ১৬ই জানুয়ারির মধ্যে রাজ্য সরকারগুলি কেন্দ্রের কাছে কী রিপোর্ট জমা দেয় এবং শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।
