TET Hearing: টেট প্রশ্নভুল মামলায় রণক্ষেত্র হাইকোর্ট! আজ কি হলো শুনানিতে দেখুন বিস্তারিত

TET Hearing: টেট ২০২২-এর প্রশ্নভুল সংক্রান্ত মামলা ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা হাইকোর্ট চত্বর। সম্প্রতি বিচারপতি বিভাস পট্টনায়কের এজলাসে ১৪ নম্বর কোর্টে এই মামলার শুনানি চলাকালীন নজিরবিহীন বাদানুবাদের সাক্ষী থাকল আদালত। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই সওয়াল-জবাবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং মামলাকারীদের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। মূল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল টেট পরীক্ষার ভুল প্রশ্ন নিয়ে গঠিত এক্সপার্ট কমিটির রিপোর্ট, যা নিয়ে মামলাকারীদের তরফে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
শুনানির উত্তপ্ত মুহূর্ত ও আইনজীবীদের সওয়াল
মামলাকারীদের হয়ে প্রবীণ আইনজীবী সপ্তাংশু বসু আদালতের সামনে এক্সপার্ট কমিটির রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরেন। তাঁর যুক্তি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট এবং ধারালো। তিনি জানান, মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সরকারি পাঠ্যবইতে যে তথ্য সঠিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে, এক্সপার্ট কমিটি সেগুলোকে অগ্রাহ্য করেছে। অর্থাৎ, পাঠ্যবইয়ের তথ্যের সঙ্গে কমিটির রিপোর্টের বিস্তর ফারাক বা ‘ডিসক্রিপেন্সি’ রয়েছে। আইনজীবীর দাবি, পরীক্ষার্থীরা পাঠ্যবই পড়েই উত্তর দিয়েছেন, তাই পাঠ্যবইকেই এক্সপার্ট কমিটির রিপোর্টের উপরে স্থান দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, কিছু প্রশ্নে ছাপার ভুল বা ‘প্রিন্টিং মিস্টেক’ থাকার কথা এক্সপার্ট কমিটি স্বীকার করে নিলেও, পরীক্ষার্থীদের সেই নম্বর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। মামলাকারীদের দাবি, এই প্রাপ্য নম্বরটুকু পেলেই বহু পরীক্ষার্থী সফল হতে পারতেন। এছাড়া ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের (ISI) আরটিআই রিপোর্ট এবং বিভিন্ন গবেষণাপত্র উল্লেখ করে দাবি করা হয় যে, বেশ কিছু প্রশ্নের দুটি করে সঠিক উত্তর রয়েছে, যা পর্ষদ মানতে নারাজ। এই প্রসঙ্গে ওড়িশা হাইকোর্টের একটি পুরনো রায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়।
পর্ষদের পাল্টা যুক্তি
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের হয়ে আইনজীবী সুবীর সান্যাল পালটা যুক্তি দেন। তাঁর বক্তব্য, পর্ষদ আদালতের নির্দেশ মেনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের মাধ্যমে এই এক্সপার্ট কমিটি গঠন করেছিল। বিষয় বিশেষজ্ঞরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হওয়া উচিত। তিনি আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের নাম বা পরিচয় প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়, এতে তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এছাড়া আরটিআই বা তথ্যের অধিকার আইনে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে এক্সপার্ট কমিটির রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না বলেও তিনি দাবি করেন।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী তারিখ
শুনানির শুরুতে বিচারপতি বিভাস পট্টনায়ক প্রশ্ন তোলেন যে, টেকনিক্যাল বা বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের ঠিক-ভুল বিচার করার এক্তিয়ার আদালতের আছে কি না। তবে মামলাকারীরা যখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা এবং পাঠ্যবইয়ের অকাট্য প্রমাণ পেশ করার প্রতিশ্রুতি দেন, তখন বিচারপতি বিষয়টি শুনতে রাজি হন। বিশেষ করে বৃত্তের পরিধি, বাগিচা চাষ এবং গ্রিন হাউস গ্যাস সংক্রান্ত প্রশ্নগুলি নিয়ে এজলাসে দীর্ঘ বিতর্ক হয়।
অবশেষে বিচারপতি নির্দেশ দেন যে, এই রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত সমস্ত মামলা আগামী ১৫ই জানুয়ারি একত্রে শোনা হবে। সেদিন মামলাকারীরা তাঁদের যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ এবং লিটারেচার আদালতের সামনে পেশ করবেন। ফলে আগামী শুনানির দিনটি টেট পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।