WB 7th Pay Commission: সপ্তম বেতন কমিশন ও ডিএ নিয়ে বড় আপডেট! ভোটের আগেই কি মিটবে সরকারি কর্মীদের দাবি?
WB 7th Pay Commission: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০২৬ সালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর হতে চলেছে। একদিকে যেমন বিধানসভা নির্বাচনের ডঙ্কা বাজতে শুরু করেছে, অন্যদিকে তেমনই কর্মীদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সপ্তম বেতন কমিশন ও মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পেশ হওয়া ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট বাজেটে রাজ্য সরকার এই বিষয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করেছে। যদিও বাজেটে প্রতিশ্রুতি মিলেছে, কিন্তু বাস্তবে তা কবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে এবং কর্মীদের মধ্যে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বাজেট ঘোষণা এবং বর্তমান পরিস্থিতি
বাজেট অধিবেশনে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য ৪ শতাংশ অতিরিক্ত মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে। এই বর্ধিত ডিএ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে কর্মীদের হাতে পৌঁছানোর কথা। তবে মার্চ মাসের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত অর্থ দপ্তরের তরফে এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশিকা বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। অন্যদিকে, বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ গত ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৫-এ শেষ হয়ে গিয়েছে এবং ১লা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সপ্তম বেতন কমিশনের কার্যকাল শুরু বলে ধরা হচ্ছে।
কমিটি গঠন নিয়ে জল্পনা ও আইনি জটিলতা
কাগজে-কলমে বেতন কমিশনের মেয়াদ শুরু হলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট পে কমিশন কমিটি গঠিত হয়নি। নতুন বেতন কাঠামো বা রোপা (ROPA) চালু করতে গেলে বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। প্রথমে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম ঘোষণা করতে হয়, এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিতে হয় এবং সবশেষে অর্থ দপ্তর তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু চিন্তার বিষয় হলো আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন। যদি এর মধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) কার্যকর হয়ে যায়, তবে নতুন করে এই কমিটি গঠনের কাজ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে যেতে পারে।
কর্মীদের মূল দাবি
অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা চাইছেন যাতে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই এই পুরো প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হয়। তাদের প্রধান দাবিগুলি হলো:
- অবিলম্বে সপ্তম বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম ঘোষণা করে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা।
- দ্রুত কমিটি গঠন করে তাদের কাজ শুরু করা।
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ দপ্তরের কাছে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ জমা দেওয়া।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে, দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে কর্মীদের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা আরও প্রলম্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।