WB DA Arrears: সুপ্রিম রায় অনুযায়ী কোন সময়ের বকেয়া পাবেন রাজ্যের কর্মচারীরা? সকলেই কি পাবেন? দেখুন বিস্তারিত
Wb DA Arrears: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বস্তির খবর। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে যে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) রাজ্য সরকারের কোনো দয়া বা অনুদান নয়, বরং এটি কর্মচারীদের অর্জিত আইনি অধিকার। ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর এক ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে সর্বোচ্চ আদালত রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই রায় শুধুমাত্র বর্তমান কর্মরত কর্মীদের জন্যই নয়, বরং পেনশনার এবং ফ্যামিলি পেনশনারদের জন্যও এক বিরাট জয়।
বকেয়া ডিএ-র সময়কাল ও হিসাব
আদালতের সাম্প্রতিকতম রায় অনুযায়ী, কর্মীদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ-র সময়কাল নিয়ে সমস্ত ধোঁয়াশা কেটে গেছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, ১লা এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ কর্মীদের প্রাপ্য।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, কেন এই নির্দিষ্ট সময়কাল বেছে নেওয়া হলো? এর মূল কারণ হলো রোপা (ROPA) বা পে-কমিশনের কার্যকরী সময়। রোপা ২০০৯ কার্যকর হয়েছিল ২০০৮ সালের ১লা এপ্রিল থেকে, এবং পরবর্তী রোপা ২০১৯ চালু হয় ২০২০ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে। ফলে, এই দুই পে-কমিশনের মধ্যবর্তী সময়ে যে মহার্ঘ ভাতা বকেয়া ছিল, তা মেটানোর দায়বদ্ধতা রাজ্য সরকারের ওপর বর্তায়। যারা এই সময়সীমার মধ্যে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন, তাঁরাও আনুপাতিক হারে এই সুবিধা পাবেন।
টাকা ফেরতের পদ্ধতি ও বিচারপতির কমিটি
বকেয়া ডিএ বা এরিয়ার্স (Arrears) কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে আদালত একটি দ্বিমুখী পদ্ধতি অবলম্বন করেছে:
- তৎক্ষণাৎ ২৫ শতাংশ প্রদান: এর আগে ১৬ই মে ২০২৫-এর আদেশে আদালত যে ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর কথা বলেছিল, তা আর দেরি না করে অবিলম্বে (Immediately) মিটিয়ে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশের নিষ্পত্তি: বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া টাকা নগদে দেওয়া হবে নাকি প্রভিডেন্ট ফান্ডে (PF) জমা হবে এবং কতগুলি কিস্তিতে তা শোধ করা হবে—তা ঠিক করার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবগঠিত কমিটিকে আগামী ৬ই মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে তাদের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৭৫ শতাংশ বকেয়ার প্রথম কিস্তিটি ৩১শে মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই কর্মীদের বুঝিয়ে দিতে হবে। রাজ্য সরকার এই কমিটির সুপারিশ মানতে বাধ্য থাকবে।
পুরো প্রক্রিয়াটি ঠিকমতো পালিত হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য রাজ্যকে একটি ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ বা স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১৫ই এপ্রিল ২০২৬। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায় সরকারি কর্মচারী মহলে আশার আলো জাগিয়েছে।