WB TET Review: এই প্রথম সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করল রাজ্য সরকার, নতুন মোড় টেট মামলায়
WB TET Review: রাজ্যের শিক্ষক মহলে ফের আশার আলো। সুপ্রিম কোর্টের ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এর টেট (TET) সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে অবশেষে সরকারিভাবে রিভিউ পিটিশন (Review Petition) দাখিল করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। গত ২৮শে নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক এবং চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজ্য সরকার ও শিক্ষক সংগঠনগুলির সম্মিলিত পদক্ষেপ
কেবলমাত্র রাজ্য সরকারই নয়, এই আইনি লড়াইয়ে সামিল হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। এর আগেই পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE) সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। এছাড়াও, বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি এবং অল পোস্ট গ্রাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর মতো প্রভাবশালী শিক্ষক সংগঠনগুলিও পৃথকভাবে রিভিউ পিটিশন জমা দিয়েছে।
শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, এই রায়ের প্রভাবে দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলিও আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ:
- তেলেঙ্গানা সরকার: গত ১২ই অক্টোবর রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে।
- উত্তরাখণ্ড সরকার: গত ২৮শে অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে।
শুনানির বর্তমান স্থিতি এবং ‘ডিফেক্ট লিস্ট’
বর্তমানে মামলাটির শুনানির কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, জমা পড়া পিটিশনগুলির মধ্যে অনেকগুলিই বর্তমানে ‘ডিফেক্ট লিস্ট’ (Defect List)-এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আইনি পরিভাষায় এর অর্থ হলো, আবেদনপত্রে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের ৯০ দিন সময় দেওয়া হয় এই ত্রুটিগুলি সংশোধন করার জন্য। ত্রুটিমুক্ত হওয়ার পরেই মামলাগুলি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হবে।
সবার আগে খবরের আপডেট পান!
টেলিগ্রামে যুক্ত হনএখনও এটি স্পষ্ট নয় যে, এই রিভিউ পিটিশনগুলির শুনানি ‘ওপেন কোর্ট’-এ (সবার উপস্থিতিতে) হবে নাকি বিচারপতির ‘ক্লোজড চেম্বার’-এ নথিপত্র খতিয়ে দেখার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওপেন কোর্টে শুনানি হলে আইনজীবীরা নতুন করে সওয়াল-জবাবের সুযোগ পাবেন, যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
সংসদের শীতকালীন অধিবেশন: নতুন আশার সঞ্চার?
আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষক সমাজ তাকিয়ে আছে আগামী ১লা ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে চলা সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের দিকে। বি.এড (B.Ed) বনাম ডি.এল.এড (D.El.Ed) দ্বন্দ্বে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার যদি কোনো অর্ডিন্যান্স বা ২০১৭ সালের বিলে সংশোধনী আনে, তবে তা বর্তমান পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
শিক্ষকদের জন্য পরামর্শ
আগামী এক মাস অর্থাৎ ডিসেম্বর মাসটি রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সময়ে শিক্ষকদের অযথা গুজবে কান না দিয়ে আদালতের অফিসিয়াল আপডেট এবং বিশ্বস্ত সংবাদ মাধ্যমের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আইনি লড়াই এবং লোকসভার অধিবেশন—এই দুইয়ের ফলাফলই ঠিক করে দেবে রাজ্যের প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ।
