WBSSC Recruitment: সুপ্রিম নির্দেশ অমান্য! ফের পরীক্ষায় বসেছে ‘অযোগ্যরা’, চিহ্নিত করল এসএসসি
WBSSC Recruitment Update: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের বড়সড় মোড়। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, চলমান একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন একাধিক ‘অযোগ্য’ বা ‘দাগি’ প্রার্থী। শুক্রবার স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, নথি যাচাই বা ভেরিফিকেশন চলাকালীন এমন ২৬৯ জন প্রার্থীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের প্রার্থিপদ বাতিল করা হয়েছে।
ভেরিফিকেশনে ধরা পড়ল ২৬৯ ‘অযোগ্য’ প্রার্থী
রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আগেই ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করেছিল। সেই নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, যারা অবৈধ উপায়ে চাকরি পেয়েছিলেন বা ‘দাগি’ (Tainted) হিসেবে চিহ্নিত, তাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু সম্প্রতি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য যে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল, তার ফলাফলের ভিত্তিতে শুরু হওয়া কাউন্সিলিং ও নথি যাচাই প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, সেই ‘অযোগ্য’ তালিকার অনেকেই পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
- কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ২৬৯ জন এমন প্রার্থীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- এদের মধ্যে শুধু শিক্ষক পদপ্রার্থীই নন, রয়েছেন গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি পদের অযোগ্য প্রার্থীরাও।
- তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও এই ‘দাগি’ প্রার্থীরা নতুন করে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন এবং ভেরিফিকেশনের জন্য ডাক পেয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও কমিশনের পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছিল, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং অযোগ্যদের কোনো স্থান দেওয়া হবে না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এই প্রার্থীরা অ্যাডমিট কার্ড পেলেন এবং পরীক্ষায় বসলেন? কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, স্ক্রুটিনি বা নথি যাচাইয়ের সময়ই এই জালিয়াতি ধরা পড়েছে।
এসএসসি স্পষ্ট জানিয়েছে, চিহ্নিত ২৬৯ জনের নাম ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে যদি আরও কোনো ‘দাগি’ প্রার্থীর নাম তালিকায় পাওয়া যায়, তবে তা কমিশনকে জানানোর জন্য পরীক্ষার্থীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তাঁদের নামও তাৎক্ষণিকভাবে বাদ দেওয়া হবে।
সবার আগে খবরের আপডেট পান!
টেলিগ্রামে যুক্ত হনচলমান ভেরিফিকেশন ও পরবর্তী ধাপ
বর্তমানে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ৩৫টি বিষয়ের মধ্যে ৩১টি বিষয়ের নথি যাচাই পর্ব শেষ হয়েছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চলবে। বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়াও সমান্তরালভাবে চলছে। কমিশনের আশঙ্কা, বাকি বিষয়গুলির ভেরিফিকেশনে আরও এমন ‘দাগি’ প্রার্থীর হদিশ মিলতে পারে। সেক্ষেত্রে বাতিল প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহেও প্রায় ৩০০ জন ভুয়ো প্রার্থীর খোঁজ মিলেছিল যারা ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করেছিলেন। এবার সরাসরি ‘অযোগ্য’ ঘোষিত প্রার্থীদের পরীক্ষায় বসা নিয়ে কমিশনের সফটওয়্যার ও স্ক্রিনিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা। তবে কমিশন আশ্বাস দিয়েছে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর।
চাকরিপ্রার্থীদের অনুরোধ, নিয়মিত আপডেটের জন্য কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং wbpay.in-এ নজর রাখুন।