পশ্চিমবঙ্গ ডিএ মামলা: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র জট কাটেনি। সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে থাকা এই মামলার শুনানি আগামী জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত পিছিয়ে গেল। আজ, ২৭শে মে, সুপ্রিম কোর্টের ১১ নম্বর কোর্টে বিষয়টি ওঠে। সেখানে রাজ্যের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আগামী ৩০শে মে রাজ্য সরকারের ডাকা একটি মেগা বৈঠকের কথা জানিয়ে শুনানি কিছুদিনের জন্য স্থগিত রাখার আবেদন করেন।
তুষার মেহতা আদালতকে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান বের করতে চাইছে। এই ইতিবাচক দিকটি বিচার করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জুলাই মাস পর্যন্ত শুনানি স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছেন।
সূচিপত্র
সুপ্রিম কোর্টের শুনানি ও আইনজীবীদের বক্তব্য
আজকের শুনানি বেশ সংক্ষিপ্ত ছিল, মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। তবে এর মধ্যেই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু জরুরি দিক সামনে এসেছে। কর্মচারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য অনলাইন শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন, তিনিও পরবর্তী শুনানির জন্য জুলাই মাসের একটি তারিখের ব্যাপারে সম্মত হন।
এদিকে, অন্যতম কর্মচারী সংগঠন ইউনিটি ফোরামের আইনজীবী করুণা নন্দী আদালতের আগের নির্দেশ মানা হয়নি এমন অভিযোগ তুলে সরব হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আজকের দিনে কোনো চূড়ান্ত রায় দেওয়া হচ্ছে না। সবকিছুর নিষ্পত্তি আগামী জুলাই মাসেই করা হবে।
শুনানির ফাঁকে অন্য এক আইনজীবী জানতে চেয়েছিলেন, রাজ্য সরকার কি রিভিউ পিটিশন প্রত্যাহার করবে? এর উত্তরে বিচারপতি জানান, সলিসিটর জেনারেল যেহেতু মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলছেন, তাই ৩০শে মে-র বৈঠকের পরেই পুরো পরিস্থিতি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
১ জুন মেগা বৈঠক ও কর্মীদের প্রত্যাশা
কলকাতা হাইকোর্টের রায় এবং গত ৫ই ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য রাজ্য সরকারের ওপর চাপ অনেকটাই বেড়েছে। নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগামী ১ জুন নবান্নে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংগঠনের কাছে এক থেকে তিন জন করে প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য আমন্ত্রণপত্র এবং নবান্নে প্রবেশের পাস পৌঁছাতে শুরু করেছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা আশা করছেন, এই বৈঠকে বকেয়া ডিএ পাওয়ার ব্যাপারে কোনো গঠনমূলক সমাধান বেরিয়ে আসবে।
কর্মচারীদের বেতনের ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব
মামলা পিছিয়ে যাওয়ায় আইনি সুরাহার জন্য কর্মচারীদের জুলাই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে নবান্নের বৈঠকটি সফল হলে বকেয়া টাকা হাতে পাওয়ার পথ দ্রুত প্রশস্ত হতে পারে।
মনে রাখবেন, সুপ্রিম কোর্ট এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের ২৫ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এই নির্দেশ কার্যকর হলে কর্মচারীদের মূল বেতনের একটি বড় অংশ এরিয়ার হিসেবে এককালীন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক নজরে ডিএ মামলার বর্তমান তথ্য
| বিষয় | বিবরণ ও বর্তমান স্থিতি |
|---|---|
| মামলার নম্বর | SLP(C) No. 22628-22630 of 2022 |
| আজকের শুনানির তারিখ | ২৭শে মে ২০২৬ |
| পরবর্তী শুনানির সময় | জুলাই ২০২৬-এর দ্বিতীয় সপ্তাহ |
| ৩০শে মে-র বৈঠক | নবান্নে কর্মচারী সংগঠনগুলির সাথে মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনা |
| বকেয়ার সময়কাল | ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল (২৫% বকেয়া ডিএ) |
সরকারি কর্মচারীদের জন্য পরবর্তী করণীয়
- সংগঠনের আপডেট রাখুন: আপনার কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ১ জুন বৈঠকে কী আলোচনা করলেন, সেদিকে নজর রাখুন।
- সার্ভিস বুক ভেরিফিকেশন: বকেয়া জিপিএফ বা এরিয়ারের হিসাবের জন্য নিজের সার্ভিস বুক এবং এইচআরএমএস (HRMS) প্রোফাইল আপ-টু-ডেট রাখুন।
- অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকা: ৩০শে মে-র বৈঠকের পর রাজ্য অর্থ দপ্তর কোনো নতুন মেমো বা জিও (GO) জারি করে কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখুন।









