রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে জট কাটাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর যে বৈঠকের অপেক্ষা ছিল, তার দিনক্ষণ বদলে গেল। প্রথমে ঠিক ছিল আগামী ৩০শে মে বৈঠকটি হবে, কিন্তু নবান্নের নতুন নির্দেশিকায় তা পিছিয়ে ১লা জুন ঠিক করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবি জানিয়ে আসছেন। নবান্ন সূত্রে খবর, টেলিফোনে প্রাথমিক আলোচনার পরই এবার ইমেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেই চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গ টেনে আলোচনার টেবিলে বসার কথা বলা হয়েছে।
সূচিপত্র
বৈঠকে ডাক পেল কোন সংগঠনগুলো?
মূলত চারটি কর্মচারী সংগঠনকে নবান্নের তরফে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এরা হলেন:
- সরকারি কর্মচারী পরিষদ
- সংগ্রামী যৌথমঞ্চ
- কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ
- ইউনিটি ফোরাম
বৈঠকের সময় ও স্থান একনজরে
নবান্নের পক্ষ থেকে আলোচনার দিনক্ষণ ও নিয়মাবলী স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে:
- নতুন তারিখ: ১লা জুন, ২০২৬ (সোমবার)
- সময়: বিকেল ৫টা
- স্থান: ১৪ তলা, চিফ মিনিস্টারস কনফারেন্স রুম, নবান্ন
- সদস্য সংখ্যা: প্রতিটি সংগঠন থেকে সর্বোচ্চ ৩ জন প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন।
আজকের সুপ্রিম শুনানি ও কর্মচারীদের অবস্থান
আজ ২৭শে মে, ২০২৬, সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার একটি শুনানি রয়েছে। তবে সরকারি কর্মচারী পরিষদ শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছে, যেন শুনানিটি ৪ সপ্তাহের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। যুক্তি, ১লা জুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আগে আইনি লড়াইয়ে না যাওয়াই শ্রেয়। এখন আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন রাজ্যের কয়েক লক্ষ কর্মী।
কর্মীদের ওপর এই বৈঠকের গুরুত্ব
রাজ্যের শিক্ষক, পেনশনভোগী এবং সরকারি কর্মীদের কাছে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১৮ই মে, ২০২৬ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন গড়ার সিদ্ধান্ত হলেও ডিএ নিয়ে কোনো কথা বলা হয়নি। বর্তমানে কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, যা কেন্দ্রীয় হারের তুলনায় বেশ কম। ১লা জুনের আলোচনায় যদি ইতিবাচক কোনো সমাধান বেরিয়ে আসে, তবে তা বেতন বৃদ্ধি ও ডিএ জট কাটাতে বড় মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী আইনি লড়াইয়ের চাপও হয়তো কিছুটা কমবে।









