Yuva Sathi Scheme: যুবসাথী প্রকল্পে বড় আপডেট! কৃষকবন্ধুরা কি টাকা পাবেন? জানুন নতুন নিয়ম
Yuva Sathi Scheme: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে আবেদনের নিয়মাবলীতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রদবদল আনা হয়েছে। বিশেষ করে নথিপত্র জমা দেওয়ার পদ্ধতি এবং ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সিউড়ি-১ ব্লকের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা বদল এবং সরকারি ওয়েবসাইট থেকে গাইডলাইন সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সাধারণ আবেদনকারীদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
নথিপত্র আপলোডের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত
অনলাইন আবেদনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে নথিপত্র আপলোডের নিয়মে একটি বড় বদল আনা হয়েছে। এখন থেকে শুধুমাত্র অরিজিনাল নথির স্ক্যান কপি আপলোড করলেই চলবে না।
- সেল্ফ-অ্যাটেস্টেড বাধ্যতামূলক: আবেদনকারীকে তার নথির জেরক্স কপিতে নিজের সই (Self-Attested) বা স্বপ্রত্যয়ন করতে হবে। এরপর সেই সই করা কপিটি স্ক্যান করে পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
- প্রয়োজনীয় নথির তালিকা: মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়স প্রমাণ), মাধ্যমিকের মার্কশিট (শিক্ষাগত যোগ্যতা), ভোটার ও আধার কার্ড (পরিচয়পত্র), ব্যাঙ্কের পাসবুক এবং কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।
গুরুত্বপূর্ণ: যারা ইতিপূর্বেই নিজের সই ছাড়া সাধারণ স্ক্যান কপি আপলোড করে ফেলেছেন, তাদের ভয়ের কিছু নেই। কর্তৃপক্ষের মতে, শুধুমাত্র এই কারণে কারোর আবেদন বাতিল করা হবে না।
কৃষকবন্ধুদের আবেদন নিয়ে বিভ্রান্তি কেন?
প্রকল্পটি নিয়ে মূল ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তারা এই নতুন স্কিমের টাকা পাবেন কি না, তা নিয়ে। ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী বিষয়টি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে:
১. নোটিশ বাতিল: গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সিউড়ি-১ ডেভেলপমেন্ট ব্লক থেকে প্রকাশিত মেমো নম্বর ৩৬২/২৫ অনুযায়ী স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে কৃষকবন্ধু প্রাপকরাও যুবসাথী প্রকল্পে আবেদনের যোগ্য।
২. নতুন নির্দেশিকা: খুব শীঘ্রই সেই নোটিশটি বাতিল করে নতুন মেমো নম্বর ৩৬৩/২৫ জারি করা হয়। নতুন নোটিশে কৃষকবন্ধুদের আবেদনের যোগ্যতার বিষয়টি সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
৩. ওয়েবসাইট থেকে গাইডলাইন উধাও: বিষয়টিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে যুব দপ্তরের একটি পদক্ষেপ। গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে দপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে প্রকল্পের মূল গাইডলাইনটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের করণীয়
সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা না এলেও, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো এখনই হতাশ না হয়ে আবেদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া।
- আবেদন চালিয়ে যান: যদি আপনার বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হয় এবং ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ যোগ্যতা থাকে, তবে অনলাইনে বা ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
- ভয়ের কারণ নেই: সরকার যদি ভবিষ্যতে নিয়ম পরিবর্তনও করে, তবে বড়জোর আপনার আবেদনটি বাতিল হতে পারে। কিন্তু এখন আবেদন না করলে পরবর্তীতে সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।