রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত খবরের ইঙ্গিত মিলল আজকের ক্যাবিনেট বৈঠকে। ১৮ই মে ২০২৬ তারিখে নতুন সরকারের দ্বিতীয় ক্যাবিনেট মিটিংয়ে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, সরকার এই কমিশন গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে।
এখন কমিশনের কার্যপ্রণালী বা টার্মস অফ রেফারেন্স চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। রোপা ২০১৯ বা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ প্রায় শেষের পথে, তাই এই ঘোষণাটি প্রশাসনিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে মনে রাখা ভালো, কমিশনের কাজ শেষ হয়ে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। তাই এখনই পকেটে বাড়তি টাকা আসার আশা না থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির পথ কিন্তু খুলে গেল।
সূচিপত্র
ডিএ নিয়ে আক্ষেপ কি মিটবে?
কমিশন গঠনের খবরটি ইতিবাচক হলেও, মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে কোনো সুখবর আসেনি। আজকের ক্যাবিনেট মিটিংয়ের এজেন্ডায় ডিএ বিষয়টি ছিল না বলেই জানানো হয়েছে। সরকারি কর্মীদের একটা বড় অংশ আশা করেছিলেন বকেয়া ডিএ বা নতুন কোনো কিস্তি নিয়ে হয়তো সরকার কিছু বলবে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী এর আগে ডিএ নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিন্তু আজকের নীরবতা স্বাভাবিকভাবেই কর্মীদের হতাশ করেছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ও বিনামূল্যে বাস পরিষেবা
সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে ক্যাবিনেট বেশ কিছু বড় ঘোষণা করেছে। আগামী ১লা জুন থেকে চালু হচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা। যারা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন, তারা এখন থেকে মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। পাশাপাশি, সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের প্রস্তাবটিও আজ চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি সাধারণ পরিবারের মহিলাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচ অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
ধর্মীয় সহায়তামূলক প্রকল্পে ইতি
রাজ্য সরকার একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন এনেছে ধর্মীয় অনুদান বা সহায়তার ক্ষেত্রে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যে চলমান বিভিন্ন ধর্মীয় সহায়তামূলক প্রকল্পগুলো এবার থেকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। জনকল্যাণমূলক এবং উন্নয়নমূলক কাজেই সরকারের মনোযোগ বেশি, মূলত সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মীদের ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব
সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদনের অর্থ হলো আগামী কয়েক বছরে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন পরিকাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আসছে। সাধারণত কমিশন গঠনের পর রিপোর্ট জমা দিতে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগে। সরকার যদি দ্রুততার সঙ্গে এগোয়, তবে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নতুন বেতন কাঠামো পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডিএ নিয়ে ঘোষণার অভাব মুদ্রাস্ফীতির বাজারে মধ্যবিত্ত কর্মীদের আর্থিক টানাপোড়েন আপাতত বহাল রাখল।









