পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি চাকরির অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের জন্য এল দারুণ সুখবর। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নবান্ন অবশেষে রাজ্য সরকারি চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। গত ১৬ মে ২০২৬ তারিখে অর্থ দপ্তরের জারি করা ১৭০৭-এফ(পি২) নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা করা হয়েছে। বয়সের কাঁটা পেরোনোর ভয়ে যারা এতদিন সরকারি চাকরির আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক বড় প্রাপ্তি।
রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের এই নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী “West Bengal Services (Raising of Age-limit) Rules, 1981”-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে। সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার ফলে বহু প্রার্থী আবেদনের সুযোগ হারান। তাদের পুনরায় মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনাই সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
সূচিপত্র
কোন গ্রুপের জন্য নতুন বয়সসীমা কত?
নতুন এই নিয়মে রাজ্য সরকারি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো হয়েছে। আপনি যদি পিএসসি বা অন্য কোনো বোর্ডের মাধ্যমে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, তবে নিচের তালিকাটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ:
- গ্রুপ এ (Group A): উচ্চপদস্থ এই চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা এখন থেকে ৪১ বছর। তবে যেসব নির্দিষ্ট পদের ক্ষেত্রে আগে থেকেই বয়সসীমা ৪১ বছরের বেশি ছিল, সেখানে পুরনো নিয়মই বহাল থাকছে।
- গ্রুপ বি (Group B): এই ক্যাটাগরির পদের ক্ষেত্রে আবেদনের বয়সসীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৪ বছর।
- গ্রুপ সি ও ডি (Group C & D): রাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই দুই স্তরের চাকরির ক্ষেত্রে সাধারণ প্রার্থীদের আবেদনের বয়সসীমা এখন থেকে ৪৫ বছর।
সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও লোকাল অথরিটির নিয়ম
শুধু সরাসরি সরকারি দপ্তর নয়, এই বিজ্ঞপ্তির সুবিধা পাবেন রাজ্যের বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (Statutory Bodies) এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চাকরিপ্রার্থীরাও। ১৯৯৯ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত আইন মেনে যেসব নিয়োগ সরাসরি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বাইরে হয়, সে ক্ষেত্রেও সাধারণ প্রার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪৫ বছর ধার্য করা হয়েছে। ফলে কর্পোরেশন বা মিউনিসিপ্যালিটির ক্ষেত্রেও প্রার্থীরা এই বাড়তি বয়সের সুবিধা নিতে পারবেন।
অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি:
কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে এই নতুন নিয়ম?
এই বিজ্ঞপ্তির সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো এর কার্যকারিতার তারিখ। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, এই নিয়ম ১১ মে ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর (Deemed to have come into force) বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, ওই তারিখের পর থেকে যে সমস্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে বা হবে, সবক্ষেত্রেই প্রার্থীরা এই নতুন বয়সের সুবিধা পাবেন।
চাকরিপ্রার্থীদের ওপর এর বাস্তব প্রভাব
যাঁরা গত কয়েক বছর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঝামেলার কারণে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাননি, তাদের কাছে এটি নতুন আশার আলো। ৪৫ বছর পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ থাকায় এখন গ্রাজুয়েশন বা পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করার অনেক পরেও সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। এর ফলে প্রশাসনিক স্তরে যেমন অভিজ্ঞ প্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে, তেমনি প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীদের হাতেও বাড়তি সময় থাকবে। যারা এতদিন বিভিন্ন পোর্টালের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের কাছে এটি নিশ্চিতভাবেই বড় স্বস্তি।









