8th Pay Commission: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নতুন বেতন কাঠামো তৈরির কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে। এই লক্ষ্যেই কমিশনের প্রতিনিধি দল সারাদেশ ঘুরে কর্মী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলছেন। মূলত মুদ্রাস্ফীতি আর জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটা গ্রহণযোগ্য বেতন কাঠামো গড়ে তোলাই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গত ১৩ ও ১৪ মে দিল্লিতে আলোচনা সেরেছেন কমিশনের সদস্যরা। এরপর ১৮ ও ১৯ মে হায়দরাবাদ এবং জুন মাসের গোড়ায় জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। সব পক্ষের প্রস্তাব ও আলোচনা পর্যালোচনা করে অগস্টের শেষ নাগাদ কমিশন তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারে বলে খবর।
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের নজর এখন আগামী সোমবারের দিকে। প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা চলছে যে, ওই দিন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বেতন কমিশন নিয়ে বড় কোনো ঘোষণা করতে পারেন। রাজ্য সরকার সরাসরি কেন্দ্রের অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ মেনে নেবে, নাকি নতুন করে সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠন করবে, সোমবার সেই ধোঁয়াশা কাটতে পারে।
বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। আগের কমিশনগুলোতে এই ফ্যাক্টর ছিল যথাক্রমে ১.৮৬ এবং ২.৫৭। তবে বর্তমান বাজারদর বিচার করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার নতুন বেসিক নির্ধারণের জন্য ১.৯ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ব্যবহারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
সরকারি কর্মীদের বেতনে প্রভাব
১.৯ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হলে বেতন কতটা বাড়তে পারে, তার একটা ধারণা পাওয়া জরুরি। বর্তমানে যে কর্মীর মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা, নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে প্রায় ৩৪,২০০ টাকা হতে পারে। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের রোপা ২০১৯ অনুযায়ী, লেভেল ৬-এর একজন কর্মীর মূল বেতন ২৮,৯০০ টাকা হলে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগের পর তা বেড়ে প্রায় ৫৪,৯১০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা এখন ৬০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ পাচ্ছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের এই বিপুল ব্যবধান ঘোচাতে নতুন বেতন কমিশন গঠন অথবা কেন্দ্রীয় কাঠামো অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবারের বিশেষ ঘোষণা ও রাজ্য সরকারের অবস্থান
আগামী সোমবার রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি রাজ্য সরকার সরাসরি কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ রাজ্যে লাগু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে নতুন করে রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের কোনো প্রয়োজন পড়বে না। এতে কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি অনেকটা দ্রুত হতে পারে।
অথবা, সরকার নতুন একটি রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের রূপরেখা ঘোষণা করতে পারে। সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর বেতন সংশোধন করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতির চাপে সরকার সময়ের আগেই এই পথে হাঁটতে পারে। এমনটা হলে শিক্ষক, পুলিশ এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মীদের আর্থিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।