All in One Income Tax Calculator FY 2025-26

Download Now!
শিক্ষা

Taruner Swapna Scheme: জানুয়ারিতেই মিলবে ট্যাবের ১০ হাজার টাকা! একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্যের, জানুন বিস্তারিত

Taruner Swapna Scheme: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তর রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য এক অত্যন্ত খুশির খবর নিয়ে এসেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের (Taruner Swapna Scheme) অধীনে ট্যাব বা স্মার্টফোন কেনার জন্য নির্ধারিত ১০,০০০ টাকা প্রদানের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের পড়ুয়ারা কবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অনুদান পাবেন, সে বিষয়ে একটি বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিকাশ ভবন।

কবে মিলবে ট্যাবের টাকা? চূড়ান্ত দিন ঘোষণা

স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কমিশনারের স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি (মেমো নম্বর: 1840-Sc/Apt, তারিখ: ২৯/১২/২০২৫) অনুযায়ী, আগামী ৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ (8th January, 2026) তারিখে পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাজ্য জুড়ে প্রায় ৬ লক্ষ পড়ুয়া এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। সরকারি স্কুল, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল এবং মাদ্রাসার একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা এই অনুদানের আওতাভুক্ত। দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, ওই নির্দিষ্ট দিনেই ট্রেজারি বা কোষাগার থেকে সরাসরি বেনিফিশিয়ারিদের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা হবে।

টাকা প্রদানে কেন হলো দেরি? কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সাধারণত পুজোর আগেই বা সেপ্টেম্বরে এই টাকা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে এবার জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে পড়ুয়াদের। এর প্রধান কারণ হলো গত বছরের জালিয়াতি ও অনিয়ম আটকানো। গত বছর বহু পড়ুয়ার টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়া বা হ্যাক হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সেই সমস্যা রোধ করতেই এবার স্কুল শিক্ষা দপ্তর অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছে:

  • NPCI ভেরিফিকেশন: স্কুলের প্রধানরা পড়ুয়াদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করে NPCI-এর মাধ্যমে কড়া যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
  • সেল্ফ ডিক্লারেশন: এবার পড়ুয়াদের একটি লিংকের মাধ্যমে নিজেদের নথি আপলোড করতে হয়েছে এবং তাদের থেকে ‘সেল্ফ ডিক্লারেশন’ নেওয়া হয়েছে। প্রধানশিক্ষকরা সেই তথ্য যাচাই করার পরই পোর্টালে আপলোড করেছেন।
  • নাম ও তথ্যের গরমিল সংশোধন: শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, আধার কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে নামের বানানে গরমিল থাকায় বহু ছাত্রছাত্রীর তথ্য সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা সময়সাপেক্ষ ছিল।

স্কুলের প্রধানদের প্রতি বিশেষ নির্দেশিকা

জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (DI) মাধ্যমে স্কুলগুলিকে জানানো হয়েছে যে, ‘বাংলার শিক্ষা পোর্টাল’-এ উপভোক্তাদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ শেষ করতে হবে। স্কুলগুলিকে দ্রুত বিল প্রস্তুত করে iFMS পোর্টালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ৮ই জানুয়ারি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই মসৃণভাবে পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ে।

যদিও শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ এই বিলম্বের জন্য সরকারি গড়িমসিকেই দায়ী করছেন। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের মতে, প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের কাজ আরও আগে সেরে ফেলা উচিত ছিল। তবে প্রশাসনের দাবি, তাড়াহুড়ো না করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থেই এই বাড়তি সময় নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রকৃত উপভোক্তারাই টাকা পায়।

এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, আগামী ৮ই জানুয়ারি রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার মুখে হাসি ফুটতে চলেছে।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button