All in One Income Tax Calculator FY 2025-26

Download Now!
পেনশনার

Second Wife Pension: সরকারি কর্মীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় স্ত্রীর পেনশন দাবি, কী জানাল হাইকোর্ট?

Second Wife Pension: ওড়িশা হাইকোর্ট সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের ফ্যামিলি পেনশন এবং হিন্দু বিবাহ আইনের সম্পর্ক নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ আইন অনুসারে একজন ব্যক্তির একটি বিয়েই আইনত সিদ্ধ। প্রথম বিবাহ বর্তমান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ শুধুমাত্র অবৈধই নয়, বরং এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই মৃত এক সরকারি কর্মচারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর পারিবারিক পেনশনের দাবি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

মামলার প্রেক্ষাপট ও দাবি

ঘটনাটি শুরু হয় যখন একজন মৃত সরকারি কর্মচারীর এক মহিলা নিজেকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফ্যামিলি পেনশনের বা পারিবারিক পেনশনের দাবি জানান। প্রথমে তিনি সংশ্লিষ্ট স্কুল ও গণশিক্ষা দপ্তরে এই আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সরকারি ওই দপ্তর তাঁর আবেদন নাকচ করে দেয়। দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ওড়িশা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে আবেদন করেন।

সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারক দপ্তরের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর দেন এবং ওই মহিলার আবেদন খারিজ করেন। বিচারক স্পষ্ট জানান, সরকারি দপ্তরের পেনশন আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনও আইনি ত্রুটি নেই। এরপর ওই মহিলা ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেন।

ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ও রায়

বিচারপতি দীক্ষিত কৃষ্ণ শ্রীপাদ এবং বিচারপতি চিত্তরঞ্জন দাসের ডিভিশন বেঞ্চ ১৩ জানুয়ারি এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কেই বহাল রাখে এবং আবেদনকারীর যুক্তি নস্যাৎ করে দেয়। আদালতের রায়ে উঠে আসা প্রধান পর্যবেক্ষণগুলি নিম্নরূপ:

  • অবৈধতাকে প্রশ্রয় নয়: আদালত জানায়, একজন ব্যক্তি যদি প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন দ্বিতীয় বিবাহ করেন, তবে পেনশনের দাবি মেনে নেওয়া মানে সেই ‘অবৈধতা’কে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া বা উৎসাহ দেওয়া। এটি আদালতের কাজ হতে পারে না।
  • আইনি ধারা: হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর ১৭ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রথম স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় পুনর্বিবাহ করা গুরুতর অপরাধ।
  • বিবাহের পবিত্রতা: ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে যে, হিন্দু সমাজের মূল ভিত্তি হলো এক বিবাহ বা ‘মনোগ্যামি’। আইনের উদ্দেশ্য এবং সারবত্তাই হলো এই নীতি বজায় রাখা।

পেনশন বিধি ও ‘স্ত্রী’ শব্দের ব্যাখ্যা

আদালত এই মামলায় পেনশন বিধিমালার বা সার্ভিস রুলসের আক্ষরিক ও আইনি ব্যাখ্যার ওপর জোর দিয়েছে। বিচারকদের মতে, পেনশন রুলে বেনিফিশিয়ারি বা সুবিধাভোগী হিসেবে ‘স্ত্রী’ (Wife) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

  • এখানে শব্দটি একবচনে ব্যবহৃত, যা বহুবিবাহ বা একাধিক স্ত্রীকে স্বীকৃতি দেয় না।
  • পেনশন বিধিতে এমন কোনও নিয়ম নেই যা হিন্দু বিবাহ আইনের পরিপন্থী গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের অধিকার দেয়।
  • বরং পেনশন আইন এবং হিন্দু বিবাহ আইন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, যেখানে এক বিবাহ নীতিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

সরকারি কর্মীদের জন্য বার্তা

এই রায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। সার্ভিস রুলস এবং ব্যক্তিগত আইন (Personal Law) যে একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তা এই রায়ে স্পষ্ট। বিবাহ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে বা অবৈধ উপায়ে দ্বিতীয় বিবাহ করলে, মৃত্যুর পর সেই সঙ্গীর জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা ফ্যামিলি পেনশন নিশ্চিত করা আইনত অসম্ভব। আদালত পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, বেআইনি সম্পর্কের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ প্রদান করা যায় না।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button