New PAN Card: আধার ওটিপি দিয়েই প্যান কার্ডে বসান নিজের পছন্দের ছবি ও সই! জানুন সহজ অনলাইন পদ্ধতি
New PAN Card: বর্তমানে প্যান কার্ড (PAN Card) প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি। সাধারণত আধার কার্ডের তথ্যের ভিত্তিতে ‘Instant PAN’ বা সাধারণ পদ্ধতিতে প্যান কার্ড তৈরি করলে, আধার কার্ডে থাকা পুরনো ছবিটিই প্যান কার্ডে চলে আসে। অনেক ক্ষেত্রেই সেই ছবি বা স্বাক্ষরহীন কার্ড নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে এখন এনএসডিএল (NSDL)-এর পোর্টালে একটি বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে, আধার ওটিপি (Aadhaar OTP) ব্যবহার করেই আপনি নিজের পছন্দমতো রঙিন ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করতে পারেন।
এই প্রতিবেদনে এনএসডিএল পোর্টালের মাধ্যমে ছবি ও সই আপলোড করে নতুন প্যান কার্ড তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো।
আবেদনের ধরন নির্বাচন ও প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন
প্রথমেই এনএসডিএল-এর অফিসিয়াল ই-গভর্ন্যান্স পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘Apply Online’ সেকশনে গিয়ে ফর্মটি সঠিকভাবে নির্বাচন করা জরুরি:
- Application Type: ড্রপডাউন থেকে ‘New PAN – Indian Citizen (Form 49A)’ বেছে নিন।
- Category: ব্যক্তিগত আবেদনের জন্য ‘Individual’ সিলেক্ট করুন।
এরপর আবেদনকারীর নাম (টাইটেল, পদবী, নাম), জন্ম তারিখ, ইমেল আইডি এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে সাবমিট করলেই একটি ‘Token Number’ তৈরি হবে। এই নম্বরটি পরবর্তী ধাপে লগ-ইন করার জন্য যত্ন করে লিখে রাখা প্রয়োজন।
ছবি ও সই আপলোডের বিশেষ অপশন
টোকেন জেনারেট হওয়ার পর ‘Continue with PAN Application Form’-এ ক্লিক করলে তিনটি অপশন দেখা যাবে। এখানেই অধিকাংশ মানুষ ভুল করেন। নিজের ছবি ও সই দেওয়ার জন্য আপনাকে দ্বিতীয় অপশনটি, অর্থাৎ “Submit scanned images through e-Sign” নির্বাচন করতে হবে। এটি সিলেক্ট করলেই আপনি ম্যানুয়ালি ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করার সুযোগ পাবেন, অন্যথায় আধারের ছবিই নিয়ে নেওয়া হবে।
ফর্ম পূরণ ও তথ্যাদি যাচাই
এই পর্যায়ে আপনাকে ব্যক্তিগত ও আয়ের তথ্য দিতে হবে:
- আধার তথ্য: আধার নম্বরের শেষ ৪টি সংখ্যা এবং কার্ড অনুযায়ী নাম লিখুন।
- পিতামাতার বিবরণ: বাবার নাম বাধ্যতামূলক, তবে মায়ের নাম ঐচ্ছিক।
- যোগাযোগ ও আয়: আয়ের উৎস (যেমন Salary বা No Income) এবং যোগাযোগের জন্য বাড়ির সঠিক ঠিকানা দিন। পিন কোড দেওয়ার পর সঠিক AO Code নির্বাচন করুন।
ডকুমেন্ট আপলোডের নিয়মাবলী
এই পদ্ধতিতে আপনাকে ফিজিক্যাল কোনো ডকুমেন্ট পাঠাতে হবে না, সব কিছুই অনলাইনে স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। ফাইলের স্পেসিফিকেশন নিচে দেওয়া হলো:
- পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ: আধার কার্ডের পিডিএফ ফাইল আপলোড করুন।
- ছবি (Photo): আবেদনকারীর রঙিন ছবি (JPG ফরম্যাট, ২০০ ডিপিআই, ৫০ কেবি-র কম)।
- স্বাক্ষর (Signature): সাদা কাগজে করা সইয়ের স্ক্যান কপি (JPG ফরম্যাট, ২০০ ডিপিআই, ৫০ কেবি-র কম)।
পেমেন্ট ও ই-সাইন প্রক্রিয়া
ফর্ম পূরণ ও আপলোড শেষে পেমেন্ট গেটওয়ে আসবে। ইউপিআই (UPI), নেট ব্যাঙ্কিং বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ১০৭ টাকার আশেপাশে ফি জমা দিতে হবে। পেমেন্ট সফল হলে আধার অথেন্টিকেশন পেজ আসবে। সেখানে ‘Authenticate’ অপশনে ক্লিক করে মোবাইলে আসা ওটিপি ভেরিফাই করতে হবে। সবশেষে ‘Continue with e-Sign’ অপশনে গিয়ে পুনরায় আধার নম্বর ও ওটিপি দিয়ে আবেদনটি চূড়ান্ত করুন।
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একটি পিডিএফ অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ জেনারেট হবে, যা খোলার পাসওয়ার্ড হলো আপনার জন্মতারিখ (DDMMYYYY)। সাধারণত ১-২ দিনের মধ্যে ইমেলে প্যান কার্ডের সফট কপি এবং ১০-১৫ দিনের মধ্যে ডাকযোগে পিভিসি (PVC) কার্ড বাড়িতে পৌঁছে যাবে।