GISS Online Module: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের GISS নিয়ে বড় খবর! জিপিএফ-এর মতোই এখন ফোনেই দেখা যাবে জমানো টাকার হিসাব
GISS Online Module: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকারি কর্মীদের ‘গ্রুপ ইনস্যুরেন্স কাম সেভিংস স্কিম’ (GISS)-কে সম্পূর্ণ ডিজিটাল আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি মেমোরেন্ডাম (নম্বর: 045-F(J)) অনুযায়ী, এখন থেকে এই বিমা প্রকল্পের সমস্ত কাজ পরিচালিত হবে WBIFMS পোর্টালের মাধ্যমে। এতদিন পর্যন্ত কর্মীরা তাদের জমানো টাকা বা সুদের সঠিক হিসাব সহজে জানতে পারতেন না, যা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় সেই সমস্যার আমূল পরিবর্তন ঘটতে চলেছে।
ডিজিটাল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সুবিধা
এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকারি কর্মীদের গ্রুপ ইনস্যুরেন্সের হিসাব ট্রেজারি বা কোষাগার-ভিত্তিক পদ্ধতিতে রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো। এই পুরোনো পদ্ধতিতে একজন কর্মচারী অবসরের আগে পর্যন্ত জানতে পারতেন না তাঁর অ্যাকাউন্টে ঠিক কত টাকা জমেছে বা কত সুদ যুক্ত হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী:
- জিপিএফ-এর মতো সুবিধা: জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড বা GPF-এর মতোই এখন GISS-এর জন্য ‘সাবস্ক্রাইবার-ভিত্তিক’ মডেল চালু হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রত্যেক কর্মীর জন্য আলাদা ব্যক্তিগত ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট থাকবে।
- রিয়েল-টাইম আপডেট: কর্মীরা এখন WBIFMS পোর্টালে লগইন করে যখন খুশি তাদের বিমা ও সঞ্চয় প্রকল্পের স্থিতি দেখতে পাবেন।
- হিসাবের স্বচ্ছতা: কত টাকা জমা পড়ল এবং সরকার তাতে কত সুদ প্রদান করল, তা সরাসরি ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে।
প্রশাসনিক পরিবর্তন ও সময়সীমা
এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য প্রশাসনিক স্তরেও বড় রদবদল আনা হয়েছে। এতদিন GISS-এর হিসাব দেখার মূল দায়িত্ব ছিল ট্রেজারি বা ডিরেক্টরেট অফ ট্রেজারিজ অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস (DTA)-এর ওপর। এখন থেকে সেই দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে ‘ডিরেক্টরেট অফ পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যান্ড গ্রুপ ইনস্যুরেন্স’ (DPPG)-এর হাতে।
আগামী ১লা এপ্রিল, ২০২৬-এর মধ্যে সমস্ত হেড অফ অফিস (HoO) বা ডিডিও-দের (DDO) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তাঁরা অধীনস্থ কর্মচারীদের সমস্ত তথ্য নতুন মডিউলে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। মূলত GISS ১৯৮৩ এবং GISS ১৯৮৭—এই দুটি প্রকল্পের ক্ষেত্রেই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ক্লেম বা দাবি পেশ করার নতুন নিয়ম
শুধুমাত্র হিসাব দেখা নয়, টাকা তোলার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মৃত্যুজনিত কারণে বিমার দাবি (Death Claim) বা অবসরের সময় জমানো টাকা তোলার (Retirement Claim) ক্ষেত্রে পুরোনো অনেক ফর্ম বা অ্যানেক্সার বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ‘মডেল স্যাংশন অর্ডার’ বা Appendix-A নামক নতুন ফরম্যাট ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে জটিলতা কমবে এবং দ্রুত টাকা পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।