LPG Cylinder Booking: রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মে বড় বদল, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের
LPG Cylinder Booking: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে চলমান অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই আন্তর্জাতিক সংকটের আঁচ এবার এসে লেগেছে ভারতের বাজারেও। একদিকে রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম এবং অন্যদিকে জোগানের ঘাটতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং সিলিন্ডারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার এলপিজি বুকিং ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বদল এনেছে।
বুকিংয়ের নতুন সময়সীমা
এতদিন পর্যন্ত গ্রাহকরা একটি সিলিন্ডার নেওয়ার পর পরবর্তী গ্যাস বুকিংয়ের জন্য ২১ দিন সময় পেতেন। কিন্তু বর্তমান সংকটের কথা মাথায় রেখে সরকার এই নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে দুটি বুকিংয়ের মাঝে অন্তত ২৫ দিনের ব্যবধান থাকতে হবে। দেশে যাতে গ্যাসের হাহাকার তৈরি না হয় এবং সকলেই সমানভাবে সিলিন্ডার পান, সেই উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উৎপাদন বাড়ানোর কড়া নির্দেশ
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ঘাটতি মেটাতে সরকার দেশীয় পরিকাঠামো ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফ থেকে দেশের সমস্ত তৈল পরিশোধনাগারগুলিকে জরুরি ভিত্তিতে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় টান পড়েছে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে অবিলম্বে প্রতিটি পরিশোধনাগারে এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
কালোবাজারি রুখতে বিশেষ নজরদারি
সংকটের সময় যাতে কোনোভাবেই রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা হয়েছে:
- কমিটি গঠন: অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলির ডিরেক্টরদের নিয়ে একটি বিশেষ নজরদারি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- বাণিজ্যিক জোগান: রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলিতে যাতে বেআইনিভাবে গ্যাস মজুত না হয়, তা নিশ্চিত করতে এই কমিটি কাজ করবে।
- জরুরি পরিষেবা: হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে যাতে রান্নার গ্যাসের বিন্দুমাত্র অভাব না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ গৃহস্থের ওপর প্রভাব
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একটি সাধারণ পরিবারে বছরে গড়ে ৭ থেকে ৮টি ১৪.২ কেজির রান্নার গ্যাস লাগে। অর্থাৎ, একটি সিলিন্ডার সাধারণত দেড় মাস বা ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত চলে যায়। তাই ২১ দিনের বদলে ২৫ দিন অন্তর বুকিংয়ের নিয়ম চালু হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর খুব বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের মধ্যে যে প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সরকার নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।