West Bengal DA: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ আদায়ের সংগ্রাম এক নতুন মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১১০০ দিন ধরে কলকাতার রাজপথে চলা এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু এখন সুপ্রিম কোর্ট। কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের এই লড়াই নিছকই আর্থিক দাবি নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক সম্মিলিত প্রতিবাদ। আগামী ১৩ তারিখ রাজ্যজুড়ে ডাকা সর্বাত্মক ধর্মঘট সেই প্রতিবাদেরই এক জ্বলন্ত রূপ হতে চলেছে।
সরকারের আইনি চাল ও কর্মচারীদের পালটা প্রস্তুতি
রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে ২১৫ পাতার একটি ‘মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন’ দাখিল করেছে। অভিযোগ, এর মূল উদ্দেশ্য হলো কোটি কোটি টাকা খরচ করে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করা, সময় কাটানো এবং আসন্ন নির্বাচন পার করে দেওয়া। তবে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এই বিষয়ে কড়া আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে। সুপ্রীম কোর্টের স্বনামধন্য আইনজীবী গোপাল সুব্রহ্মণ্যমের সাথে দ্রুত বৈঠকে বসছেন মঞ্চের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি, সুদীপ্ত দাসগুপ্ত, বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট আইনজীবীরা সরকারের এই মডিফিকেশন আবেদনের বিরোধিতায় আইনি রূপরেখা প্রস্তুত করছেন।
ডিএ প্রাপ্তির আওতায় কারা থাকছেন?
মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ স্পষ্ট করেছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের মূল রায়ে “পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কর্মচারী” (Employees of the State of West Bengal) কথাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এর অর্থ হলো, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু দপ্তরের কর্মী নন, বরং স্কুল শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী, পঞ্চায়েত ও পৌরসভা কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বোর্ড এবং কর্পোরেশনের কর্মীরাও এই বকেয়া ডিএ পাওয়ার যোগ্য। ২০০৯ সালের রোপা (ROPA) নিয়ম অনুযায়ী এই অধিকার স্বীকৃত। ভাস্কর ঘোষের দাবি, সরকার তথ্য গোপন করে কর্মচারীদের মধ্যে বিভেদ ও আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও ধর্মঘটের ডাক
আইনি লড়াইকে আরও জোরদার করতে খুব শিগগিরই দিল্লিতে গিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি উত্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে যৌথ মঞ্চের। অন্যদিকে, ১৩ তারিখের সর্বাত্মক ধর্মঘটকে সফল করতে সব স্তরের কর্মচারীদের নির্ভয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জানা যাচ্ছে, পুলিশ এবং শাসকদলের কর্মচারী সংগঠনের একাংশও পরোক্ষভাবে এই ধর্মঘটকে সমর্থন যোগাচ্ছেন। সব মিলিয়ে, মহার্ঘ ভাতা আদায়ের এই আইনি ও রাজপথের লড়াই এখন এক চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।