পশ্চিমবঙ্গ

WB Election: ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিরাট চমক! ইভিএম ও ভোটকেন্দ্র নিয়ে কমিশনের নতুন নিয়ম জানুন

WB Election 2026: পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটদান প্রক্রিয়াকে আরও বেশি আধুনিক, সুরক্ষিত এবং সাধারণ মানুষের জন্য আরামদায়ক করে তুলতে একাধিক নতুন রূপরেখা স্থির করা হয়েছে। এবারের পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও কড়া নজরদারি

নির্বাচনে কারচুপি রুখতে এবার প্রযুক্তির সর্বাধিক ব্যবহার হতে চলেছে। রাজ্যের সমস্ত ভোটকেন্দ্রে একশো শতাংশ নজরদারির জন্য ওয়েবকাস্টিং বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিটি বুথের ছবি সরাসরি কমিশনের নজরে থাকবে। পাশাপাশি, ইভিএম যন্ত্রের ক্ষেত্রেও বড়সড় বদল আসছে। ভোটাররা যাতে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে সহজেই চিনতে পারেন, তার জন্য ব্যালট ইউনিটে প্রার্থীদের নামের পাশে স্পষ্ট রঙিন ছবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রের নয়া বিন্যাস ও নারীশক্তি

রাজ্যজুড়ে বিপুল সংখ্যক ভোটারের কথা মাথায় রেখে আশি হাজারের বেশি পোলিং স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। ভিড় সামলাতে কোনো বুথেই ১২০০ জনের বেশি ভোটার বরাদ্দ করা হবে না। এছাড়া, ৬৩৪টি বুথকে মডেল হিসেবে সাজিয়ে তোলা হবে। নারী ক্ষমতায়নের এক অনন্য নজির গড়তে দশ হাজারের বেশি বুথ সম্পূর্ণভাবে মহিলা ভোটকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হবে। এই বিশাল কর্মকাণ্ডের জন্য অতিরিক্ত রিজার্ভ সহ ষাট হাজারের বেশি মহিলা কর্মীর প্রয়োজন পড়বে বলে জানা যাচ্ছে।

বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের স্বস্তি

সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি বয়স্ক ও দিব্যাঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পঁচাশি বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকরা এবারও ঘরে বসেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, শারীরিক প্রতিবন্ধী বা CWSN ভোটারদের বুথ পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দিতে হুইলচেয়ার এবং স্বেচ্ছাসেবক মজুত রাখা হবে। এছাড়াও, বিএলও কর্মীদের মাধ্যমে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ইনফরমেশন স্লিপ পৌঁছে দেওয়া সুনিশ্চিত করা হবে।

পরিকাঠামোর হালহকিকত

কমিশনের নির্দেশিকায় প্রতিটি বুথে পানীয় জল এবং শৌচালয়ের ব্যবস্থা রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও বাস্তবের মাটিতে এই নির্দেশিকা কতটা পালিত হয়, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। বিগত নির্বাচনগুলির অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, বহু ক্ষেত্রে ভোটকর্মীদের নিজেদেরই শৌচালয় পরিষ্কার বা জলের ব্যবস্থা করতে হয়। তবে জলসঙ্কট রয়েছে এমন জায়গাগুলোতে প্রশাসনের তরফ থেকে আগেভাগেই জলের ড্রাম পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখন দেখার বিষয়, এবারের নির্বাচনে এই সমস্ত পরিকল্পনা কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button