সার্ভিস রুলস

Aadhaar Date of Birth: আধার বা ভোটার কার্ড দেখিয়ে কি সার্ভিস বুকে বয়স কমানো যায়? সরকারি চাকরিতে বয়সের প্রমাণ নিয়ে বড় রায় আদালতের

Aadhaar Date of Birth: সরকারি কর্মচারী এবং চাকরিরত ব্যক্তিদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। সম্প্রতি আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, চাকরির ক্ষেত্রে আধার কার্ড (Aadhaar Card) বা ভোটার কার্ডকে (Voter ID Card) জন্ম তারিখের চূড়ান্ত বা অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। প্রমীলা বনাম মধ্যপ্রদেশ রাজ্য ও অন্যান্য মামলায় বিচারপতি জয় কুমার পিল্লাইয়ের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণ সরকারি চাকরির ‘সার্ভিস রুলস’ এবং নথিপত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে আলোকপাত করেছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই মামলার খুঁটিনাটি এবং কেন আদালত আধার কার্ডকে বয়সের প্রমাণ হিসেবে মানতে নারাজ।

সার্ভিস রেকর্ডই প্রধান প্রমাণ

বিচারপতি পিল্লাই তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, একজন কর্মচারী যখন চাকরিতে যোগদান করেন, তখন যে সার্ভিস রেকর্ড বা চাকরির খতিয়ান তৈরি করা হয়, সেটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল। একজন কর্মী তাঁর পুরো কর্মজীবনে এই রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করেই সমস্ত সুবিধা ভোগ করেন।

চাকরি জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে বা অবসরের পর, আধার কার্ড বা ভোটার কার্ডের মতো নথির দোহাই দিয়ে সার্ভিস রেকর্ডে থাকা জন্ম তারিখ পরিবর্তন করা গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের মতে:

  • আধার এবং ভোটার কার্ড মূলত পরিচয়পত্র (Identity Proof) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • এই নথিগুলি অনেক সময় ব্যক্তির নিজস্ব ঘোষণার (Self-declaration) ভিত্তিতে তৈরি হয়।
  • চাকরিতে যোগদানের অনেক পরে এই নথিগুলি তৈরি হতে পারে, তাই এগুলি সার্ভিস বুকের তথ্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে না।

মামলার প্রেক্ষাপট: কী ঘটেছিল আসলে?

এই মামলাটি মূলত এক অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকার নিয়োগ ও অবসরকে কেন্দ্র করে। ঘটনার ক্রম নিচে দেওয়া হলো:

  1. জুন ২০১৮: প্রমীলা নামক এক আবেদনকারী যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকা পদে নিযুক্ত হন।
  2. মার্চ ২০১৭: প্রমীলার আগে ওই পদে কর্মরত হিরলিবাই তাঁর সার্ভিস রেকর্ডের জন্ম তারিখ অনুযায়ী অবসর গ্রহণ করেছিলেন।
  3. আপিল ও দাবি: অবসরের প্রায় দুই বছর পর, হিরলিবাই দাবি করেন যে তাঁর সার্ভিস বুকে জন্ম তারিখ ভুল লেখা ছিল। তিনি নিজের আধার ও ভোটার কার্ড পেশ করেন, যেখানে তাঁর জন্ম সাল ১৯৬৪ উল্লেখ ছিল (যা সার্ভিস রেকর্ডের থেকে প্রায় ৯ বছর কম)।
  4. কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত: ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আপিল কর্তৃপক্ষ হিরলিবাইয়ের দাবি মেনে নিয়ে তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে এবং এর ফলে প্রমীলার চাকরি যায়।

হিরলিবাই এবং প্রমীলার দাবির মধ্যে মূল পার্থক্যগুলি একটি তালিকার মাধ্যমে নিচে তুলে ধরা হলো:

বিষয়হিরলিবাইয়ের দাবি (অবসরপ্রাপ্ত)প্রমীলার অবস্থান (নতুন কর্মী)
প্রমাণের ভিত্তিআধার ও ভোটার কার্ড (স্বঘোষিত তথ্য)নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা ও সার্ভিস রুলস
জন্ম সাল১৯৬৪ (দাবি অনুযায়ী)রেকর্ড অনুযায়ী অনেক আগে
ফলাফলপ্রথমে পুনর্বহাল, পরে হাইকোর্টে বাতিলপ্রথমে ছাঁটাই, পরে হাইকোর্টে জয়ী

যুক্তিতে অসঙ্গতি ও আদালতের ভর্ৎসনা

হাইকোর্ট হিরলিবাইয়ের দাবির মধ্যে বড়সড় অসঙ্গতি খুঁজে পায়। আদালত লক্ষ্য করে যে, হিরলিবাই যদি সত্যিই ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করতেন, তবে তাঁর ছেলে এবং পুত্রবধূর বয়সের সাথে তা সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্ম সাল বিবেচনা করলে হিরলিবাইয়ের দাবি অবাস্তব মনে হয়। আদালত স্পষ্ট জানায়, “এই অবিসংবাদিত তথ্যগুলি প্রমাণ করে যে হিরলিবাইয়ের ১৯৬৪ সালে জন্ম হওয়া সম্ভব নয়।”

ন্যায়বিচার লঙ্ঘন ও চূড়ান্ত নির্দেশ

শুধু জন্ম তারিখের বিতর্ক নয়, প্রমীলাকে যেভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, তা নিয়েও আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে।

  • প্রমীলাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
  • তাঁর কোনো দোষ ছিল না এবং তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
  • এটি ‘ন্যাচারাল জাস্টিস’ বা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

রায়: আদালত ২০২০ সালের আপিল আদেশ বাতিল করে প্রমীলাকে অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল করার নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যদিকে, হিরলিবাই অবসরের পর বেআইনিভাবে যে বেতন বা সুবিধা নিয়েছিলেন, তা সুদসহ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই রায় ভবিষ্যতে সরকারি কর্মীদের সার্ভিস রেকর্ডের গুরুত্ব এবং বয়সের প্রমাণের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী নজির হিসেবে কাজ করবে।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button