Annapurna Yojana: রাজ্য সরকারের মেগা প্রকল্প অন্নপূর্ণা যোজনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। মহিলাদের মাসিক ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ৮ জুলাই, ২০২৬ তারিখে একটি নতুন নোটিফিকেশন জারি করে সরকার। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে বড় অংশের মহিলাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং আয়কর দাতাদের পরিবারের মহিলারা এই যোজনার সুবিধা পাবেন না। সরকারের এই সিদ্ধান্তে এই সকল পরিবারের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ সরকারের এই ঘনঘন নীতি পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সূচিপত্র
নতুন নির্দেশিকায় কারা বাদ পড়লেন?
সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে ঠিক কোন কোন অংশের মহিলারা এই ৩,০০০ টাকা পাবেন না।
- স্বাস্থ্য ও শিশু কল্যাণ কর্মী: আশা এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সরকারি সাম্মানিক পান। সেই কারণে তাঁদের এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
- সরকারি কর্মীর পরিবার: সরকারি কর্মচারী, তা সে স্বল্প বেতনের গ্রুপ-ডি কর্মী হলেও, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না।
- পেনশনভোগী ও আয়কর দাতা: পেনশনভোগী এবং ইনকাম ট্যাক্স দাতাদের পরিবারের মহিলাদেরও এই সুবিধাভোগীর তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ও আয়ের বৈষম্য
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ দেখা গেছে আয়ের মূল্যায়নে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির বৈষম্য নিয়ে। আমাদের পূর্বের ভিডিওর কমেন্টে এক ক্ষুব্ধ নাগরিক মন্তব্য করেছেন যে, কারও ছেলে ডি গ্রুপে চাকরি করে মাসে ২৬,০০০ টাকা বেতন পেলে তাঁরা বাদ পড়ছেন। অথচ যারা বেসরকারি চাকরি করে মাসে ৫০,০০০ বা ৬০,০০০ টাকা বেতন পান তারা এই টাকা পাবেন। প্রোমোটার, ব্যবসায়ী, এবং উকিলদের স্ত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার মূল উদ্দেশ্য ছিল মহিলাদের স্বাবলম্বী করা। কিন্তু সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগীদের বেকার স্ত্রী বা মায়েদের বাদ দেওয়ায় সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ অনেকের। বেকার গৃহবধূদের টাকার খুব প্রয়োজন যা তারা তাদের সরকারি কর্মরত স্বামীদের কাছ থেকে সব সময় পান না। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, ভোটের আগে মানুষের সমর্থন পাওয়ার জন্য সরকার একরকম কথা বলেছে আর এখন নিয়ম বদলানো হচ্ছে।
চরম হয়রানি ও প্রশাসনিক জটিলতা
প্রচুর মানুষ অনেক আশা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে কাগজপত্র জমা করেছিলেন। এখন নতুন নিয়মের গেরোয় সেই সব পরিশ্রম বিফলে গেল। ফ্যামিলি পেনশনভোগীদের আয় অত্যন্ত কম হওয়ায় তাঁদের এই যোজনার আওতায় আনার জোরালো দাবি উঠেছে।
যারা ইতিমধ্যেই টাকা পেয়ে গেছেন বা যারা সরকারি অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরি করেন, তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মতে, বাড়ি বাড়ি যাচাই বা বৈঠকগুলো আগে করে তবেই এই যোজনা শুরু করা উচিত ছিল। আমরা এই খবরের ওপর নজর রাখছি এবং পরবর্তীতে কোনো আপডেট এলে তা জানাব।









