WB DA News: সুপ্রিম কোর্টে আজ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মামলার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতীক্ষিত শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। শীর্ষ আদালতের ৮ নম্বর কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বিশেষ বেঞ্চে দুপুর ২টো ৫৫ মিনিট নাগাদ এই বহুল চর্চিত মামলাটি ওঠে। অন্যান্য কয়েকটি মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পরেই স্পেশাল বেঞ্চে ডিএ মামলার শুনানি শুরু হয়। আজকের শুনানিতে একাধিক উল্লেখযোগ্য বিষয় উঠে এসেছে, যার মধ্যে অন্যতম হল ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কাছে সরকারি কর্মচারীদের দাবি পেশ এবং গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-Aid) কর্মীদের বকেয়া ডিএ ইস্যু। আজকের এই বিস্তারিত প্রতিবেদনে আমরা জেনে নেব সুপ্রিম কোর্টের আজকের শুনানির পুঙ্খানুপুঙ্খ আপডেট।
সূচিপত্র
বিচারপতি সঞ্জয় করোলের অবসর এবং কমিটির উপর দায়িত্ব
আগামী ২২শে আগস্ট শীর্ষ আদালতের প্রবীণ বিচারপতি সঞ্জয় করোল অবসর গ্রহণ করতে চলেছেন। সেই কারণে তিনি এই ডিএ মামলার সমস্ত বিষয় এবং অভিযোগ নবগঠিত ইন্দু মালহোত্রা কমিটির নিকট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়ে গেছে এবং এখন থেকে মামলাকারীদের সমস্ত অভিযোগ বা বক্তব্য ওই কমিটির কাছেই তুলে ধরতে হবে। মামলাকারীদের তরফ থেকে কারা প্রতিনিধি হিসেবে কমিটির কাছে যাবেন, সেই তালিকাও এদিন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জানিয়েছেন, কমিটিই এখন থেকে সমস্ত দাবিদাওয়া খতিয়ে দেখবে।
গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে তুমুল সওয়াল-জবাব
আজকের শুনানিতে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মচারী, বিশেষ করে রাজ্য সরকারের সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ডিএ-র বিষয়টি বিশেষভাবে উত্থাপিত হয়। মামলাকারীদের আইনজীবী আদালতকে জানান যে, গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীরা এখনও তাঁদের প্রাপ্য বেতন বা বকেয়া ডিএ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। তাঁরা যাতে সরাসরি ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কাছে তাঁদের দাবি ও বঞ্চনার কথা জানাতে পারেন, সেই আর্জি জানানো হয় আদালতের কাছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের হয়ে উপস্থিত সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আপত্তি জানিয়ে বলেন যে, এটি মূল রায়ের বাইরে একটি নতুন বিষয়। তিনি দাবি করেন, এই বিষয়ে মামলাকারীদের একটি নির্দিষ্ট আবেদন বা অ্যাপ্লিকেশন (Application) জমা দিতে হবে, যার ভিত্তিতে রাজ্য সরকার এফিডেভিট বা হলফনামার মাধ্যমে নিজেদের উত্তর দেবে। তবে মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী করুণা নন্দী ম্যাডাম রাজ্যের পেশ করা ৮৪ পাতার স্ট্যাটাস রিপোর্টের ৬৪ নম্বর পাতার সরাসরি উল্লেখ করেন। তিনি বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, রাজ্য সরকার নিজেই ওই রিপোর্টে গ্রান্ট-ইন-এইড শিক্ষকদের ডিএ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছে, তাই তাঁদের বিষয়টি কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
মালহোত্রা কমিটির বৈঠকে কতজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন?
ইন্দু মালহোত্রা কমিটির সাথে আসন্ন বৈঠকে কতজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়ে এদিন আদালতে বিস্তর আলোচনা হয়। প্রথমে মামলাকারীদের তরফ থেকে ৫ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রতিনিধি এবং ২ জন নেতা-সহ মোট ১০ জন প্রতিনিধির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান যে, প্রতিটি সংগঠন থেকে একজন করে প্রতিনিধি যাওয়াই সবথেকে যুক্তিযুক্ত হবে। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রও এই বিষয়ে সহমত পোষণ করে জানান যে, কমিটি কোনো আদালত নয়, তাই সেখানে অহেতুক ভিড় বা ক্রাউড (Crowd) করার কোনো প্রয়োজন নেই। শেষ পর্যন্ত স্থির হয়, পাঁচটি মূল পার্টি থেকে একজন করে প্রতিনিধি সেখানে বক্তব্য রাখবেন, যাতে কোনোরকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে AICPI বনাম WBPI বিতর্ক
শুনানি চলাকালীন ইউনিটি ফোরামের আইনজীবী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন যে, রাজ্য সরকার অল ইন্ডিয়া কনজুমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) মেনে ডিএ প্রদান করছে না, বরং নিজস্ব পদ্ধতিতে ডব্লিউবিপিআই (WBPI) অনুযায়ী ৬৫% ডিএ দিচ্ছে, যা কেন্দ্রীয় নিয়মের পরিপন্থী। বিচারপতি এই বিষয়টিও কমিটিকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান যে, ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রায় ৭,৭০০ কোটি টাকা সরকারি কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে (PF) জমা দেওয়া হয়েছে। এই টাকার সঠিক হিসেব অর্ডারের কপিতে বিস্তারিতভাবে পাওয়া যাবে।
কবে হবে মামলার পরবর্তী শুনানি?
আজকের শুনানির শেষে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যে, ইন্দু মালহোত্রা কমিটির সাথে প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর আলোচনার সম্পূর্ণ সারাংশ একটি সাপ্লিমেন্টারি এফিডেভিট বা অতিরিক্ত হলফনামা আকারে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হবে। যেহেতু বিচারপতি সঞ্জয় করোল অবসর নিচ্ছেন, তাই পরবর্তী শুনানি বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং গ্রান্ট-ইন-এইড শিক্ষকদের এখন মূল লক্ষ্য থাকবে ইন্দু মালহোত্রা কমিটির বৈঠক এবং সেই সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রিপোর্টের দিকে।









