ইনকাম ট্যাক্স

Cash Transaction Limit: একদিনে কত টাকা ক্যাশ ট্রানজ্যাকশন করা যায়? নিয়ম ভাঙলে গুনতে হবে মোটা জরিমানা

Cash Transaction Limit
Cash Transaction Limit

Cash Transaction Limit: বর্তমানে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে আমরা অনেকেই ইউপিআই (UPI) বা অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে পছন্দ করি। কিন্তু এখনও এমন অনেক পরিস্থিতি আসে যেখানে নগদ টাকার ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তবে আপনি কি জানেন, পকেটে নগদ টাকা রাখা বা তা দিয়ে লেনদেন করার ক্ষেত্রে আয়কর দপ্তরের কড়া নজরদারি রয়েছে? নিজের অজান্তেই যদি একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি টাকা আপনি নগদে লেনদেন করেন, তবে বড়সড় বিপদে পড়তে পারেন। এমনকি জরিমানাস্বরূপ আপনার পুরো টাকাই বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

আয়কর আইনের ধারা ২৬৯এসটি (Section 269ST) এবং নগদ লেনদেনের খুঁটিনাটি নিয়মগুলি জেনে রাখা প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব ঠিক কত টাকা পর্যন্ত নগদে লেনদেন করা নিরাপদ এবং কখন আপনাকে সতর্ক হতে হবে।

সূচিপত্র

নগদ লেনদেনের সময় এই ভুল করলেই বিপদ

অনেকেই মনে করেন নিজের টাকা নগদে খরচ করলে বা গ্রহণ করলে আবার সমস্যা কীসের! কিন্তু এখানেই অনেকে ভুল করেন। আয়কর দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, কালো টাকার রমরমা কমাতে এবং কর ফাঁকি আটকাতে নগদ লেনদেনের ওপর নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে এক দিনে ২ লক্ষ টাকার বেশি নগদ লেনদেন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

আয়কর আইনের ২৬৯এসটি ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একটি দিনে, একটি ট্রানজ্যাকশনে বা কোনো একটি বিশেষ ইভেন্ট বা উপলক্ষকে কেন্দ্র করে ২ লক্ষ টাকা বা তার বেশি নগদ অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন না। যদি আপনি এই নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে আয়কর দপ্তর আপনার ওপর বড় অংক জরিমানা চাপাতে পারে।

Advertisement

কতটা জরিমানা হতে পারে?

এই নিয়মটি অত্যন্ত কড়া। যদি কোনো ব্যক্তি ২ লক্ষ টাকার বেশি নগদ গ্রহণ করেন, তবে তিনি যে পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছেন, ঠিক সেই পরিমাণ অর্থই জরিমানা হিসেবে দিতে হতে পারে। অর্থাৎ জরিমানার হার ১০০ শতাংশ।

সহজ একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি বোঝা যাক। ধরুন, আপনি কোনো সম্পত্তি বিক্রি বা ব্যবসার প্রয়োজনে কারো কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নগদে গ্রহণ করলেন। এটি আয়কর দপ্তরের নজরে এলে, আপনাকে ওই ৩ লক্ষ টাকাই জরিমানা হিসেবে দিতে হবে। অর্থাৎ লাভের টাকা পুরোটাই লোকসানে পরিণত হবে। তাই বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বদা ব্যাঙ্কিং চ্যানেল বা চেক ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আয়কর দপ্তরের স্ক্যানারে রয়েছে যেসব লেনদেন

শুধুমাত্র ২ লক্ষ টাকার নগদ গ্রহণই নয়, আয়কর দপ্তর আরও বেশ কিছু হাই-ভ্যালু বা বড় অংকের লেনদেনের ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখে। আপনি যদি মনে করেন ছোট ছোট ট্রানজ্যাকশন করে এড়িয়ে যাবেন, তবে ভুল ভাবছেন। নিচের ক্ষেত্রগুলিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন:

  • পেশাগত বা ব্যবসায়িক লেনদেন: কোনো ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী যদি কোনো ক্লায়েন্টের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকার বেশি ক্যাশ নেন, তবে তা নিয়মবিরুদ্ধ।
  • ব্যাঙ্কে টাকা জমা: যদি কোনো ব্যক্তি একটি আর্থিক বছরে ১০ লক্ষ টাকার বেশি নগদ অর্থ নিজের সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা করেন, তবে ব্যাঙ্কের তরফ থেকে আয়কর দপ্তরে রিপোর্ট পাঠানো হয়। এর ফলে আপনি নোটিশ পেতে পারেন।
  • ক্রেডিট কার্ডের বিল: ক্রেডিট কার্ডের বিল মেটানোর সময় সাবধান। যদি ১ লক্ষ টাকার বেশি বিল আপনি নগদ টাকায় মেটান, তবে তা আয়কর দপ্তরের নজরে চলে আসবে।
  • সম্পত্তি কেনাবেচা: ৩০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি মূল্যের কোনো স্থাবর সম্পত্তি কেনা বা বেচার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রারের তরফ থেকে সেই তথ্য আয়কর দপ্তরে জানানো হয়। সেখানে টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
  • উপহার বা গিফট: আত্মীয় বা অনাত্মীয় কারোর কাছ থেকে যদি ৫০,০০০ টাকার বেশি মূল্যের উপহার নগদে পান, তবে সেটিও স্ক্রুটিনির আওতায় আসতে পারে।

নোটিশ এড়াতে কী করবেন?

আয়কর দপ্তরের নোটিশ বা জরিমানা থেকে বাঁচতে হলে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সবথেকে জরুরি। সরকার চাইছে মানুষ ডিজিটাল লেনদেনের দিকে ঝুঁকুক। এতে টাকার প্রবাহ ট্র্যাক করা সহজ হয় এবং কালো টাকার কারবার বন্ধ করা যায়। সুরক্ষিত থাকতে নিচের পরামর্শগুলি মেনে চলুন:

  • যেকোনো বড় পেমেন্ট বা লেনদেন অনলাইন, চেক বা ড্রাফ্টের মাধ্যমে করুন।
  • যদি নগদে লেনদেন করতেই হয়, তবে ২ লক্ষ টাকার সীমা কখনোই অতিক্রম করবেন না।
  • প্রতিটি বিল, রসিদ এবং লেনদেনের রেকর্ড সযত্নে রাখুন।
  • গিফট বা লোনের ক্ষেত্রে লিখিত প্রমাণ রাখা বাঞ্ছনীয়।

মনে রাখবেন, আপনি বেতনভুক কর্মচারী হোন বা ব্যবসায়ী—এই নিয়ম সকলের জন্য সমান। তাই আইনি ঝামেলা এড়াতে সতর্ক থাকাই শ্রেয়।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>