Financial Power Revision: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তরের (Audit Branch, Group T) তরফ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেমোরেন্ডাম বা নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই নির্দেশিকার মাধ্যমে রাজ্যের প্রশাসনিক দপ্তরগুলির ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাপ্রুভাল’ (Administrative Approval) এবং ‘ফিনান্সিয়াল স্যাংশন’ (Financial Sanction বা AAFS) প্রদানের ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষমতা বা ডেলিগেটেড ফিনান্সিয়াল পাওয়ার (Delegated Financial Power) পুনরায় সংশোধন করা হয়েছে। ৫ই জুন, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই নতুন নির্দেশিকাটির মেমো নম্বর হলো 2016-F(Y)। এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং স্কিমগুলির অনুমোদন ও রূপায়ণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এবং কার্যকর করা। সরকারি কাজ যাতে কোনওভাবেই অর্থাভাব বা অনুমোদনের অভাবে থমকে না থাকে, সেই কারণেই এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী ও নতুন নির্দেশিকার তুলনামূলক আলোচনা এবং মূল পরিবর্তন
গত ৭ই জুলাই, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত 2502-F(Y) নির্দেশিকা (যা ৩১.১০.২০২৫ তারিখের 3784-F(Y) নির্দেশিকার সাথে একত্রে পঠিত) অনুযায়ী প্রশাসনিক দপ্তরগুলির আর্থিক ক্ষমতা সর্বশেষ নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন 2016-F(Y) নির্দেশিকায় মূলত অন্যান্য দপ্তরগুলির (Other Departments) আর্থিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে, তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ক্ষমতা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নিয়মকানুনের এই পরিবর্তনের ফলে সামগ্রিকভাবে প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আসবে।
- অপরিবর্তিত আর্থিক ক্ষমতা সম্পন্ন দপ্তর: পূর্ববর্তী নির্দেশিকার মতোই রাজ্যের পূর্ত দপ্তর (PWD), সেচ ও জলপথ (I&WD), জনস্বাস্থ্য কারিগরি (PHE), জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন (WRID), নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক (UDMA), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ (H&FW) এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন (P&RD) দপ্তরের ডেলিগেটেড ফিনান্সিয়াল পাওয়ার বা আর্থিক ক্ষমতা ৩ কোটি টাকাতেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একইভাবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন (NBDD), পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন (PUAD) এবং সুন্দরবন বিষয়ক (Sundarban Affairs) দপ্তরের ক্ষমতা আগের মতোই সর্বাধিক ১ কোটি টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।
- আর্থিক ক্ষমতায় মূল পরিবর্তন: পূর্ববর্তী ২৫০২-এফ(ওয়াই) নির্দেশিকায় গৃহায়ণ (Housing), আইসিই (ICE), ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতি ক্ষুদ্র উদ্যোগ (MSMET) এবং এইচঅ্যান্ডএইচএ (H&HA) দপ্তরের আর্থিক ক্ষমতা ছিল ৭৫ লক্ষ টাকা এবং অন্যান্য সমস্ত দপ্তরের ক্ষমতা ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। বর্তমান নির্দেশিকায় এই কাঠামোটিকে আরও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত ‘অন্যান্য দপ্তরের’ (Other Departments) আর্থিক ক্ষমতা একধাক্কায় ৫০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন।
নতুন নির্দেশিকার মূল প্রভাব এবং ব্যবহারিক সুবিধা
- প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন: রাজ্যের অন্যান্য দপ্তরগুলির আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫ লক্ষ টাকা হওয়ার ফলে বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি আকারের সরকারি প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে খুব দ্রুত ছাড়পত্র মিলবে।
- কাজের গতি বৃদ্ধি: দপ্তরগুলি নিজেদের আর্থিক ক্ষমতাবলে কাজ করতে পারায় বারবার অর্থ দপ্তরের অনুমোদনের জন্য ফাইল পাঠানোর দীর্ঘসূত্রিতা অনেকটাই কমে যাবে। এর ফলে স্কিম ও প্রজেক্টগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
- বাজেট সংস্থানের বাধ্যবাধকতা: নতুন নির্দেশিকায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, প্রশাসনিক দপ্তরগুলিকে অবশ্যই ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের (Financial Advisor) সম্মতি বা কনকারেন্স নিয়েই এই এএএফএস (AAFS) বা সংশোধিত এএএফএস প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি, এই অনুমোদন দেওয়ার আগে দপ্তরগুলিকে নিজেদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের (Budget Provisions) দিকে বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে।
অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পি. কে. মিশ্র স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকাটি অবিলম্বে অর্থাৎ ৫ই জুন, ২০২৬ তারিখ থেকেই সমগ্র রাজ্যে কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কাজে ব্যাপক গতিশীলতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।









