Private Tuition Ban: পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দপ্তরে ফের বড়সড় তোলপাড়! সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং স্পনসর্ড স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনি করা নিয়ে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল বিকাশ ভবন। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের (Directorate of School Education, West Bengal) অ্যাডমিন সেকশনের তরফ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের (District Inspector of Schools – SE & PE) একটি অত্যন্ত জরুরি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা যদি আইন লঙ্ঘন করে প্রাইভেট টিউশনি চালিয়ে যান, তবে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূচিপত্র
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননার অভিযোগ
বিকাশ ভবনের এই সাম্প্রতিক মেমোতে (Memo No. 662-Sc/Apt/DSE-24011(99)/2/2026-CMO SEC-DSE, Date: 04/06/2026) উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (National Human Rights Commission – NHRC) থেকে একটি গুরুতর নোটিশ (Case No -386/25/26/2026) এসেছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বহু সরকারি স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকা শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯ (RTE Act, 2009)-এর ২৮ নম্বর ধারা এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রমরমিয়ে বেআইনি প্রাইভেট টিউশনি ব্যবসা চালাচ্ছেন।
অভিযোগে আরও একটি মারাত্মক বিষয় সামনে এসেছে। বলা হয়েছে যে, কিছু শিক্ষক নিজেদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেওয়ার বা ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিজেদের কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা এবং তাদের অভিভাবকেরা মানসিক হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনই পেশাদার ও প্রকৃত প্রাইভেট টিউটররা তাদের রুজি-রুটি হারিয়ে চরম সংকটের মুখে পড়ছেন।
আইন এবং পূর্ববর্তী সরকারি নির্দেশিকা কী বলছে?
শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে এর আগেও একাধিকবার এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে পূর্ববর্তী দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আদেশের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে:
- ২০১১ সালের নির্দেশিকা (Memo No- 189-SE(Law)): RTE Act, 2009-এর ধারা ৩৫(২) অনুযায়ী ১৪/০২/২০১১ তারিখে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, স্কুলের কোনো কর্মরত শিক্ষক বা শিক্ষিকা কোনোভাবেই নিজেকে কোনো রকম প্রাইভেট টিউশনি বা প্রাইভেট টিচিং অ্যাক্টিভিটির সাথে যুক্ত রাখতে পারবেন না।
- ২০১৮ সালের নির্দেশিকা (Notification No. 214-SE/S/10M-/01/18): ০৮/০৩/২০১৮ তারিখের বিজ্ঞপ্তির ধারা ৪-এর পয়েন্ট 6 অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের জন্য কোনো শিক্ষক টিউশনি করতে পারবেন না। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কোনো বিশেষ ‘রিমিডিয়াল কোচিং’ (Remedial Coaching)-এর আয়োজন করে, তবে সেখানে শিক্ষকরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকবেন।
এক নজরে সরকারি নির্দেশিকা ও নিয়মের তালিকা
শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করতে সরকার এবং আদালতের বিভিন্ন সময়ের নির্দেশগুলি নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| নির্দেশিকা নম্বর ও তারিখ | আইন / রেফারেন্স | মূল বিষয়বস্তু ও নিষেধাজ্ঞা |
|---|---|---|
| Memo No- 189-SE(Law) তারিখ: 14/02/2011 | RTE Act, 2009 (Section 35(2) & Section 28) | যেকোনো সরকারি বা সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের জন্য সব ধরণের প্রাইভেট টিউশনি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। |
| Notification No. 214-SE/S/10M-/01/18 তারিখ: 08/03/2018 | School Education Department (Section 4, Point 6) | ব্যক্তিগত লাভের জন্য টিউশনি নিষিদ্ধ। তবে স্কুলের অফিসিয়াল রিমিডিয়াল ক্লাসে অংশ নেওয়া যাবে। |
| Memo No- 662-Sc/Apt তারিখ: 04/06/2026 | NHRC Case No -386/25/26/2026 | সমস্ত জেলার DI-দের দ্রুত তদন্ত করে দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ। |
বিকাশ ভবনের চূড়ান্ত নির্দেশ ও অ্যাকশন প্ল্যান
ডেপুটি ডিরেক্টর অফ স্কুল এডুকেশন (অ্যাডমিন), পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের (DI) উদ্দেশ্যে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরণের অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে বিষয়টির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে শিক্ষার অধিকার আইন এবং আদালতের অবমাননা রোধ করা যায়।









