CPI Base Year: সস্তা হবে লোন, নাকি বাড়বে বেতন? CPI বাস্কেটে বড় রদবদল করল সরকার
CPI Base Year: দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার জন্য এবং সঠিক নীতি নির্ধারণের জন্য পরিসংখ্যান বা ডেটা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারত সরকার সম্প্রতি দেশের অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে। সাধারণ মানুষের খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) বা খুচরো মুদ্রাস্ফীতি মাপার ‘বেস ইয়ার’ বা ভিত্তি বর্ষ পরিবর্তন করা হয়েছে। এতদিন ২০১২ সালকে ভিত্তি করে মুদ্রাস্ফীতির হিসেব করা হতো, যা এখন বদলে ২০২৪ সাল করা হয়েছে। এই নতুন নিয়মে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ২.৭৫ শতাংশে।
কেন প্রয়োজন হলো এই পরিবর্তনের?
গত এক দশকে ভারতীয়দের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। ২০১২ সালে মানুষের খরচের ধরণ যা ছিল, ২০২৪-এ এসে তা সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
- জীবনযাত্রার বিবর্তন: ২০১২ সালে সুইগি, জোমাটোর মতো ফুড ডেলিভারি অ্যাপ বা নেটফ্লিক্সের মতো ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মের চল ছিল না বললেই চলে। কিন্তু বর্তমানে মধ্যবিত্তের খরচের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এই পরিষেবাগুলি।
- পুরানো তথ্যের সীমাবদ্ধতা: পুরানো বেস ইয়ার ব্যবহার করার ফলে অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র উঠে আসছিল না। সঠিক তথ্যের অভাবে সরকারের পক্ষেও জনকল্যাণমূলক নীতি প্রণয়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছিল।
পণ্যের বাস্কেটে কী কী রদবদল?
মুদ্রাস্ফীতি মাপার জন্য সরকার নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ও পরিষেবার একটি ‘বাস্কেট’ বা ঝুড়ি ব্যবহার করে। নতুন নিয়মে এই বাস্কেটে বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে।
- পণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি: আগে যেখানে ২৯৯টি পণ্য ও পরিষেবাকে ট্র্যাক করা হতো, এখন সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫৮ করা হয়েছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির হিসেব আরও নিখুঁত হবে।
- খাদ্যদ্রব্যে গুরুত্ব হ্রাস: মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধুমাত্র খাওয়ার পেছনে আয়ের শতাংশ খরচ কমেছে। তাই খাদ্যদ্রব্যের ‘ওয়েটেজ’ বা গুরুত্ব ৪৫.৮৬% থেকে কমিয়ে ৩৬.৭৫% করা হয়েছে।
- আবাসনে গুরুত্ব বৃদ্ধি: অন্যদিকে বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ এবং জলের মতো খরচ বেড়েছে। তাই আবাসন বা হাউজিং-এর গুরুত্ব ১০% থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৭-১৮% করা হয়েছে।
ডিজিটাইজেশন এবং আধুনিকীকরণ
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এই নতুন সিস্টেমে পুরনো ও অপ্রচলিত জিনিসগুলিকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- বাদ পড়ল: ভিসিআর, ডিভিডি প্লেয়ার, রেডিও, টেপ রেকর্ডারের মতো পণ্য, যা এখন আর কেউ ব্যবহার করেন না, সেগুলিকে তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- যুক্ত হলো: ওটিটি সাবস্ক্রিপশন, মোবাইল রিচার্জ, অনলাইন ফুড অর্ডার, ট্রাভেল এবং পার্সোনাল কেয়ারের মতো আধুনিক পরিষেবা যুক্ত হয়েছে।
- অনলাইন ট্র্যাকিং: ২০১২ সালে ই-কমার্সের দাপট কম ছিল। কিন্তু এখন অ্যামাজন বা ফ্লিপকার্টের মতো প্রায় ১২টি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেও দাম ট্র্যাক করা হবে।
আমজনতার ওপর কী প্রভাব পড়বে?
এই পরিবর্তনের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে।
- RBI-এর সুবিধা: সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) রেপো রেট নির্ধারণ করতে পারবে, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
- সরকারি কর্মী ও পেনশনার: কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স (DA) বা মহার্ঘ ভাতা এবং পেনশন বাড়ার বিষয়টি CPI-এর ওপর নির্ভর করে। নতুন এবং সঠিক বাস্কেটের ফলে তাঁরা বর্তমান বাজারের খরচের নিরিখে সঠিক ভাতা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক মান: ভারত এখন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-র মানদণ্ড মেনে চলছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ডেটাকে বিশ্বমানের করে তুলবে।