DA Arrears: নবান্নে পুলিশই জমা দিল ডিএ-র দাবিদাওয়ার কপি! রবিবার রাজপথে নামছে কর্মচারীরা
DA Arrears: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বৃদ্ধি পেল। শীর্ষ আদালতের রায় কার্যকর করার দাবিতে গতকাল, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নবান্নে হাজির হয় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তার প্রতিলিপি রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতরে পৌঁছে দেওয়া। তবে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নবান্ন চত্বরে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিরা যখন আদালতের রায়ের কপি জমা দিতে নবান্নের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, তখন হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরা এবং একদল পুলিশ তাদের পথ আটকায়। কর্মীদের ভিতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের আটকে দেওয়া হলেও, কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরাই সেই দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন।
কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের নিচুতলার কর্মীরাও যে ডিএ বঞ্চনার শিকার, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট। তাঁরা আন্দোলনকারীদের হয়ে রায়ের কপিটি জমা দিয়ে আসেন। এই ঘটনাকে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ সরকারের প্রতি পুলিশ কর্মীদের নীরব বার্তা হিসেবেই দেখছে। দিনের শেষে উর্দিধারী কর্মীরা বুঝিয়ে দিলেন যে বঞ্চনার প্রশ্নে তাঁরাও সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গেই রয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কী বলা হয়েছে?
রাজ্য সরকারি কর্মী এবং পেনশনারদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। এই রায়কে হাতিয়ার করেই এখন জোরদার আন্দোলনের পথে হাঁটছে যৌথ মঞ্চ। যদিও কর্মচারীদের একাংশের আশঙ্কা, রাজ্য সরকার হয়তো এই রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে সদিচ্ছা দেখাবে না বা সময়ক্ষেপ করার চেষ্টা করবে।
রবিবার বড় জমায়েতের ডাক
সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী রবিবার অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারি এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার বেলা ১২টার সময় সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের জমায়েত হতে হবে। সেখান থেকেই সংগঠিত করা হবে প্রতিবাদ মিছিল।
সংগঠনের নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, এটি এখন আর শুধু আইনি লড়াই নয়, বরং রাজপথে নেমে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার সময়। সময় অত্যন্ত কম, তাই সরকারকে কড়া বার্তা দিতে সকল বঞ্চিত কর্মচারীকে নিজের দায়িত্বে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ৩১ মার্চের ডেডলাইন সামনে রেখে রবিবারের এই মিছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।