All in One Income Tax Calculator FY 2025-26

Download Now!
ডিএ

DA Case Update: ডিএ মামলা এখনো কেন শেষ হয়নি? সুপ্রিম কোর্টে বাকি থাকা ১৩ প্রশ্নের ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী শুনানির দিনক্ষণ

DA Case Update: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) মামলা নিয়ে রাজ্যজুড়ে জল্পনার শেষ নেই। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তাকে অনেকেই চূড়ান্ত রায় ভেবে ভুল করছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেন এই মামলা এখনো চলছে এবং আগামী দিনগুলোতে ঠিক কী হতে চলেছে, তা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

৫ই ফেব্রুয়ারির রায় কি চূড়ান্ত ছিল?

সহজ কথায় উত্তর হলো— না। সুপ্রিম কোর্ট গত ৫ই ফেব্রুয়ারি যে রায় ঘোষণা করেছে, সেটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন রায় (Interim Judgment)। অর্থাৎ, মামলার মূল বিচার প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রিতার পেছনে মূল কারণ হলো মামলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য আইনি প্রশ্ন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় সব পক্ষ মিলিয়ে মোট ২৬টি আইনি প্রশ্ন বা ‘ল অফ কোয়েশ্চেন’ তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে:

  • মামলার আবেদনকারী এবং রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ছিল ১৬টি প্রশ্ন।
  • প্রতিবাদী বা সরকারি কর্মচারীদের তরফ থেকে ছিল ১০টি প্রশ্ন।

৫ই ফেব্রুয়ারির রায়ে এই ২৬টি প্রশ্নের মধ্যে মাত্র ১৩টি প্রশ্নের নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, মামলার অর্ধেক অংশ বা আরও ১৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলা এখনো বাকি। যতক্ষণ না এই বাকি অংশগুলোর আইনি সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ ডিএ মামলার পূর্ণাঙ্গ পরিসমাপ্তি ঘটছে না।

আদালতের আগামী গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ

সুপ্রিম কোর্ট খুব স্পষ্টভাবেই মামলার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। কর্মচারীদের নজর এখন মূলত দুটি তারিখের দিকে:

  • ৬ই মার্চ: এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা গঠিত কমিটি তাদের রিপোর্ট পেশ করবে। রাজ্য সরকার আদালতের নির্দেশ মেনে চলছে কিনা এবং কর্মচারীদের বকেয়া পাওনার হিসাব কতটা স্বচ্ছ, তা এই রিপোর্টের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
  • ১৫ই এপ্রিল: এটিই পরবর্তী শুনানির দিন। বাকি থাকা ১৩টি অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এবং মামলার লিস্টিং বা তালিকাভুক্তির জন্য এই দিনটি ধার্য করা হয়েছে। এই দিনেই নির্ধারিত হতে পারে মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ।

আইনজীবীদের ভূমিকা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

ডিএ মামলার শুনানিতে আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কর্মচারীদের দাবিদাওয়ার পক্ষে সওয়াল করার জন্য উপস্থিত ছিলেন রউফ রহিম, পি এস পাটোয়ালিয়া, করুণা নন্দী এবং নচিকেতা যোশীর মতো চারজন বিশিষ্ট সিনিয়র অ্যাডভোকেট। অন্যদিকে, রায় ঘোষণার সময় সরকারের পক্ষে কোনো সিনিয়র অ্যাডভোকেটকে দেখা যায়নি।

বিচারপতি কারোল তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সরকারি কর্মচারীদের আইনজীবীরা আদালতকে আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে যথেষ্ট সহায়তা করেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আদালত সুবিচারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।

ঐতিহাসিক রায়ের অপেক্ষায় কর্মচারীরা

আইনজ্ঞদের মতে, এই মামলাটি কেবল ডিএ পাওয়ার লড়াই নয়, বরং এটি ভারতের ‘সার্ভিস জুরিসপ্রুডেন্স’ বা চাকরির আইনি বিধিমালার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হতে চলেছে। বিশেষ করে ‘সমকাজে সমবেতন’ এবং কর্মচারীদের মৌলিক অধিকারের মতো বিষয়গুলো এখনো সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আগামী ১৫ই এপ্রিলের শুনানি এবং ৬ই মার্চের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই বোঝা যাবে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button