DA Legal Notice: ডিএ মামলায় নবান্নকে কড়া আইনি নোটিশ! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বড় পদক্ষেপ কর্মীদের
DA Legal Notice: রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে আইনি লড়াই এবার এক নতুন মোড় নিল। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশিকার পর এবার সরাসরি রাজ্য সরকারকে আইনি নোটিশ বা লিগ্যাল নোটিশ পাঠাল সরকারি কর্মীদের সংগঠন ইউনিটি ফোরাম। এই পদক্ষেপে রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
শীর্ষকর্তাদের কাছে আইনি বার্তা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যাতে অবিলম্বে কার্যকর করা হয়, সেই দাবিতে রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব প্রভাত কুমার মিশ্রকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রবীর চ্যাটার্জির মাধ্যমে এই আইনি নথি নবান্নের শীর্ষকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নোটিশে মূলত সুপ্রিম কোর্টের সিভিল আপিল এবং স্পেশাল লিভ পিটিশনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আদালতের রায় মানার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কমিটি গঠন ও সময়সীমার আল্টিমেটাম
আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ বা ইন্টেরিম ডাইরেকশন অনুযায়ী যে বিশেষ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে, নোটিশে সেটির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকছেন:
- হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জাস্টিস তারলোক সিং চৌহান।
- কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর একজন প্রতিনিধি।
- দপ্তরের একজন বরিষ্ঠ আধিকারিক।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ডিএ-এর প্রথম কিস্তির টাকা মিটিয়ে দেওয়া এবং কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৫ই এপ্রিল ২০২৬, যেখানে খতিয়ে দেখা হবে আদালতের নির্দেশ কতটা মানা হল।
কর্মীদের মধ্যে ডিএ বৈষম্যের পরিসংখ্যান
রাজ্য সরকারের একই নিয়মনীতি বা রোপা (ROPA)-২০০৯ মেনে চলা সত্ত্বেও কর্মীদের মধ্যে যে ভৌগোলিক বৈষম্য তৈরি হয়েছে, তা এই নোটিশে তথ্যসহ তুলে ধরা হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে:
- দিল্লির বঙ্গভবন বা চেন্নাইয়ের ইউথ হোস্টেলে কর্মরত রাজ্য সরকারের কর্মীরা ১৬৪ শতাংশ হারে ডিএ পেয়েছেন।
- অথচ পশ্চিমবঙ্গের বুকে কর্মরত সেই একই রাজ্য সরকারের কর্মীরা পেয়েছেন মাত্র ১২৫ শতাংশ ডিএ।
অর্থাৎ, ২০১৯ সাল পর্যন্ত হিসেব কষলে দেখা যাচ্ছে রাজ্যের ভেতরের কর্মীদের প্রায় ৩৯ শতাংশ ডিএ বকেয়া রাখা হয়েছে, যাকে নোটিশে ‘চরম বৈষম্য’ বা গ্রস ডিসক্রিমিনেশন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়ানোর পরামর্শ
নোটিশের শেষলগ্নে ইউনিটি ফোরামের পক্ষ থেকে রাজ্যকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অ্যাপেক্স কোর্ট বা সর্বোচ্চ আদালতের এই সময়সীমা মেনে চলাই শ্রেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দেশ কার্যকর না হলে ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারকে আরও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার বা লিটিগেশনের সম্মুখীন হতে হতে পারে। কর্মীদের প্রাপ্য অধিকার আদায়ে এই আইনি নোটিশকে একটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ কৌশল হিসেবেই দেখছেন আন্দোলনকারীরা।