ডিএ

DA News: ডিএ কোনো ‘অধিকার’ নয়! আদালতে বিস্ফোরক দাবি কেরালা সরকারের, পশ্চিমবঙ্গের সাথে মিল কোথায়?

DA News: মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির মাঝেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি কেরল সরকার আদালতে সাফ জানিয়েছে যে, ডিএ পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের কোনো আইনি অধিকারের মধ্যে পড়ে না। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই এই ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেরলের এই অবস্থান বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ডিএ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আর্থিক সংকট ও সরকারের যুক্তি

কেরলের একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মীদের দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকার আদালতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকার আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমানে রাজ্য তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বকেয়া ডিএ মেটানো সরকারের পক্ষে কার্যত অসম্ভব। সরকারের প্রধান যুক্তিগুলো হল:

  • নীতিগত সিদ্ধান্ত: ডিএ প্রদান করা হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এটি কোনো বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়া নয়।
  • আর্থিক সামর্থ্য: ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পকেটে টান থাকলে ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়।
  • স্বয়ংক্রিয় নয়: যদিও ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা মূল্যবৃদ্ধি সূচকের (Price Index) সঙ্গে যুক্ত, তবুও এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়ার দাবি করা যায় না।

আদালতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাজ্য সরকার আদালতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছে। তাদের মতে, ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ খুবই সীমিত হওয়া উচিত। আদালতের নির্দেশে বকেয়া মেটাতে গিয়ে রাজ্যের ওপর যদি অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপে, তবে তা প্রশাসনের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। অর্থাৎ, সরকার পরোক্ষভাবে বোঝাতে চেয়েছে যে, প্রশাসনিক এবং আর্থিক নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের হাতেই থাকা উচিত, আদালতের হাতে নয়।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

সরকারের এই কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও, কেরল হাইকোর্ট কর্মীদের পুরোপুরি নিরাশ করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সরকার আর্থিক সংকটের দোহাই দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য দায় এড়াতে পারে না। কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ কবে নাগাদ মেটানো সম্ভব হবে, বা আদৌ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, সে বিষয়ে একটি স্পষ্ট সময়সীমা বা রূপরেখা আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের সাথে প্রাসঙ্গিকতা

কেরল সরকারের এই অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরে আদালতে একই যুক্তি দেখিয়ে আসছে। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট— সর্বত্রই রাজ্য জানিয়েছে যে ডিএ কর্মীদের ‘অধিকার’ নয় বরং এটি সরকারের ‘দয়া’ বা ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল, যা রাজ্যের কোষাগারের অবস্থার সাপেক্ষে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ডিএ মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এবং সরকারি কর্মীরা চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button