Election Forms Guide: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসারদের জন্য বিভিন্ন নির্বাচনী ফর্ম এবং প্যাকেট জমা দেওয়ার পদ্ধতি স্পষ্ট করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের দিন কাজ শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট পাঁচটি প্যাকেট বা কভারে সংবিধিবদ্ধ এবং অ-সংবিধিবদ্ধ নথিগুলি নির্ভুলভাবে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এই নথিপত্রগুলি নির্দিষ্ট রঙের খামে এবং সঠিক ক্রমে সাজিয়ে সেক্টর অফিসার বা ডিসিআরসি কাউন্টারে জমা দিতে হবে।
সূচিপত্র
নির্বাচনী ফর্ম জমার গুরুত্ব এবং প্রেক্ষাপট
ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য ভোটকর্মীদের ১৭এ, ১৭বি এবং ১৭সি-র মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফর্ম পূরণ করতে হয়। সঠিক খামে সঠিক নথি না থাকলে স্ক্রুটিনির সময় বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং ভোটকর্মীদের ডিসিআরসিতে (DCRC) নথি জমা দেওয়ার সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তাই প্রতিটি ফর্মের নির্ভুলতা এবং নির্দিষ্ট কভারে সেগুলির বিন্যাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন যাতে ভোট প্রক্রিয়া ত্রুটিমুক্ত থাকে।
ভোটের নথিপত্র এবং বিভিন্ন প্যাকেটের বিন্যাস
ভোটের দিন কাজ সহজ করতে ফর্ম এবং খামগুলিকে নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নিচে তার বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:
- প্রথম প্যাকেট (সাদা রঙের): এটি ইভিএম পেপারস কভার হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার রিপোর্টের মূলত পাঁচটি অংশ থাকে। মকপোল সার্টিফিকেট, ব্যাটারি পরিবর্তনের তথ্য এবং ভোট শেষের রিপোর্ট এই প্যাকেটে রাখতে হয়। এছাড়া পোলিং এজেন্টদের দেওয়ার জন্য ফর্ম ১৭সি বা ব্যালট পেপার অ্যাকাউন্ট এবং ব্যবহৃত পেপার সিলের হিসাব এই বড় প্যাকেটে থাকবে। যদি ইভিএম মেশিন খারাপ হয় তবে পার্ট ফোর এবং ফাইভ সেক্টর অফিসারকে সরাসরি জমা দিতে হবে।
- দ্বিতীয় প্যাকেট (সাদা রঙের): একে স্ক্রুটিনি কভার বলা হয়। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসারের ডায়েরি রাখা আবশ্যিক। ডায়েরিতে সারাদিনের ভোটের হিসাব, দুই ঘণ্টা অন্তর এসএমএস এবং পেপার সিলের হিসাব থাকে। এছাড়া দ্বিতীয় পোলিং অফিসারের দ্বারা রক্ষিত ভোটারদের রেজিস্টার বা ফর্ম ১৭এ, পরিদর্শকদের জন্য ভিজিট শিট এবং অন্ধ বা অশক্ত ভোটারদের তালিকা ও ঘোষণা পত্র এই প্যাকেটে জমা হবে।
- তৃতীয় প্যাকেট (সাদা রঙের): এটি স্ট্যাচুটরি কভার বা সংবিধিবদ্ধ খাম। বুথে যদি কোনো টেন্ডার ভোট (Tender Vote) পড়ে থাকে, তবে তার হিসাব সম্বলিত ফর্ম ১৭বি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পূরণ করে এই প্যাকেটে ভরে জমা দিতে হবে।
- চতুর্থ প্যাকেট (হলুদ রঙের): এটি নন-স্ট্যাচুটরি কভার। প্রিসাইডিং অফিসারের ঘোষণার চারটি অংশ, যেমন ভোট শুরুর আগে, মেশিন পরিবর্তন, ভোট শেষে এবং বক্স সিল করার পর নেওয়া ঘোষণাগুলি এই খামে থাকবে। এছাড়া ASD ভোটারদের তথ্য, চ্যালেঞ্জ ভোট, টেস্ট ভোটের ঘোষণা এবং চ্যালেঞ্জ ভোটের জন্য সংগৃহীত অর্থের রশিদ এই হলুদ প্যাকেটে জমা দিতে হবে।
কর্মচারীদের জন্য কী প্রভাব
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী, বিশেষ করে শিক্ষক এবং অন্যান্য বিভাগের কর্মীরা যারা ভোটকর্মী হিসেবে কাজ করেন, তাদের জন্য এই বিন্যাস মেনে চলা জরুরি। ফর্ম পূরণের সময় কাটাকুটি হলে বা এজেন্টদের স্বাক্ষর নিতে ভুলে গেলে সেক্টর অফিসারের কাছে জবাবদিহি করতে হতে পারে। সঠিক ফর্ম সঠিক প্যাকেটে না থাকলে স্ক্রুটিনি পর্বে অহেতুক দেরি হয়, যার ফলে বাড়ি ফিরতে বিলম্ব ঘটে। এই নির্দেশিকা অনুসরণ করলে সরকারি কর্মচারীরা আইনি জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পারবেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ভোটকর্মীদের উচিত প্রশিক্ষণের সময় সরবরাহ করা হ্যান্ডবুকের সাথে এই ফর্মগুলির নম্বর এবং খামের রঙ আগে থেকেই মিলিয়ে দেখা। ভোটের দিন যে ফর্মগুলি ব্যবহার হবে না, সেগুলি আড়াআড়িভাবে কেটে নির্দিষ্ট ছোট খামে ভরে সংশ্লিষ্ট বড় প্যাকেটে জমা দিতে হবে। কোনো ফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশয় থাকলে বুথে উপস্থিত সেক্টর অফিসারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ভোট শেষ হওয়ার পর সব কটি খাম সিল করার আগে প্রতিটি নথি সঠিকভাবে ঢোকানো হয়েছে কিনা তা পুনরায় যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশন এবং প্রিসাইডিং অফিসার প্রশিক্ষণ গাইড